বাসস
  ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:২৫
আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৩১

৫ বছর গুম থাকলে সম্পত্তি বণ্টনের আদেশ দিতে পারবেন ট্রাইব্যুনাল

ঢাকা, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবারের আইনি সুরক্ষা ও উত্তরাধিকার নিশ্চিত করতে নতুন সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের মুদ্রণ ও প্রকাশনা শাখা থেকে মঙ্গলবার এ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। অধ্যাদেশটি জনসাধারণের জন্য গেজেট আকারে প্রকাশ করা  হয়েছে।

আজ বুধবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পাবলিক রিলেশন অফিসার এ তথ্য জানান।

এই সংশোধনীর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি অন্তত ৫ বছর গুম থাকলে এবং জীবিত ফিরে না আসলে, ট্রাইব্যুনাল তার সম্পত্তি বৈধ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টনযোগ্য মর্মে ঘোষণা দেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা লাভ করেছে। এছাড়া, গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী বা নির্ভরশীল সদস্যদের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে এখন থেকে কমিশনের পূর্বানুমতি লাগবে না।

অধ্যাদেশটি ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ সংশোধনকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ, ২০২৬’ নামে অভিহিত হবে। এটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্পত্তি বণ্টন ও উত্তরাধিকারের নতুন বিধান : অধ্যাদেশের ২৩ ধারার সংশোধনী অনুযায়ী, ‘দ্য এভিডিয়েন্স অ্যাক্ট, ১৮৭২’ এর ১০৮ ধারায় (সাধারণত ৭ বছর নিখোঁজ থাকার বিধান) যা-ই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীনে কেউ ৫ বছর গুম থাকলে তার উত্তরাধিকারীরা সম্পত্তির অধিকার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন।

ট্রাইব্যুনাল আবেদনের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে উক্ত সম্পত্তি বণ্টনের আদেশ দিতে পারবেন। তবে, প্রবিধান প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত আবেদনের পদ্ধতি ট্রাইব্যুনাল নিজেই নির্ধারণ করবে।

মামলা পরিচালনায় পাবলিক প্রসিকিউটর : সংশোধিত অধ্যাদেশের ১৩ ধারার পরিবর্তন করে বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালে অভিযোগকারীর পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য কমিশনের সুপারিশে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগ দেবে সরকার। তবে, কমিশন না থাকা অবস্থায় বা জরুরি প্রয়োজনে সরকার সরাসরি পিপি নিয়োগ করতে পারবে অথবা জেলা ও মহানগর পিপি বা অতিরিক্ত পিপি-দের ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করতে পারবে। ভুক্তভোগীর পক্ষে ব্যক্তিগত আইনজীবী নিয়োগের অধিকারও এতে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা : নতুন অধ্যাদেশে গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী বা নির্ভরশীল সদস্যদের আইনি সুরক্ষাকে সহজতর করা হয়েছে। মামলা দায়ের বা কার্যধারা শুরুর ক্ষেত্রে তাদের জন্য কমিশনের অনুমতির বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে, ট্রাইব্যুনাল চাইলে আবেদনের সত্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজনে কমিশনের নিকট প্রতিবেদন তলব করতে পারবেন।

গুম হওয়া ব্যক্তির সংজ্ঞা ও আওতা : সংশোধিত অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে গঠিত তদন্ত কমিশনের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে অথবা এই অধ্যাদেশ ও ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট, ১৯৭৩’-এর অধীনে দায়েরকৃত মামলায় যারা গুম হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন এবং ট্রাইব্যুনালের আদেশ প্রদানের পূর্ব পর্যন্ত জীবিত ফিরে আসেননি, তারাই এই আইনের অধীনে ‘গুম হওয়া ব্যক্তি’ হিসেবে বিবেচিত হবেন।