বাসস
  ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:০২
আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:১০

হাদি হত্যা মামলায় সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পিসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট : ডিবি

শহীদ শরিফ ওসমান হাদি। ফাইল ছবি

ঢাকা, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আজ আদালতে চার্জশিট জমা দেয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টু রোডে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, চার্জশিটে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম অভিযুক্ত হচ্ছে- ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ।

পরিকল্পিত হামলার অংশ হিসেবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাপ্পি এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী।

অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল বলেন, চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পি, ফয়সাল করিম মাসুদ, তার বোন জেসমিন, সহযোগী আমগীর শেখ ও ফিলিপসহ পাঁচজন পলাতক রয়েছে এবং এই হত্যা মামলায় ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে- মাস্টারমাইন্ড ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী শাহেদা পারভিন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু এবং বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা। গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন- মুক্তি মাহমুদ, মো. কবির, নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সিবিয়ন ডিও, সঞ্জয় চিসিম, আমিনুল ইসলাম রাজু এবং আব্দুল হান্নান।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে স্পষ্টবাদী অবস্থানের কারণে হাদিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। হাদি পতিত আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, হাদির ওপর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন এবং ক্ষোভ থেকেই তাকে হত্যা করে। তিনি আরও বলেন, ফয়সাল করিম মাসুদ ছাত্রলীগের একজন নেতা ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, চার্জশিট মামলার একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। হাদি হত্যা মামলায় গ্রেফতার ছয়জন ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

শফিকুল ইসলাম বলেন, এই মামলায় তদন্তে কারও নাম সামনে এলে সম্পূরক চার্জশিট দেয়া হবে। তদন্তের সময় পুলিশ দুটি বিদেশি পিস্তল, ৫২ রাউন্ড গুলি, একটি মোটরসাইকেল, জাল নম্বর প্লেট এবং ৫৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ২১৮ কোটি টাকার চেক উদ্ধার করেছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টার দিকে পল্টন থানাধীন বিজয়নগর বক্স কালভার্ট রোডে হাদিকে গুলি করা হয়।

পুলিশের মতে, ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার এক সহযোগী মোটরসাইকেল থেকে চলন্ত অবস্থায় হাদিকে গুলি করে।

গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তার অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয় এবং ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হামলার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

হাদির মৃত্যুর পর ২০ ডিসেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ (হত্যা) ধারা অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন।