বাসস
  ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ২১:১১
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ২১:৩২

বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিদেশে নেওয়ার মতো নেই : বিএনপি মহাসচিব

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কোলাজ : বাসস

ঢাকা, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ (বাসস) : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আরও উন্নত চিকিৎসায় বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলে চিকিৎসকগণ বলছেন।

মহাসচিব বলেন, ‘কিন্তু এখন যে শারীরিক অবস্থা সে অবস্থায় তাঁকে বিদেশে নেওয়ার মতো কোন শারীরিক অবস্থা নেই। শারীরিক অবস্থা আল্লাহর অশেষ রহমতে যদি স্টেবল হয় তখন চিন্তা করে দেখা হবে যে, তাঁকে বিদেশে নেয়া সম্ভব হবে কিনা।’

আজ শনিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এ কথা জানান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া ‘সংকটাপন্ন’ অবস্থাতেই আছেন। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে  চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব। ছবি : বাসস

তিনি বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন যে আমাদের বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেত্রী গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিনি বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় এভারকেয়ার হাসপাতালে আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা  কিছু সংকটাপন্ন। দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসকবৃন্দ, বিদেশের আমেরিকার জন হপকিংস এবং লন্ডনের লন্ডন ক্লিনিকের বিশিষ্ট চিকিৎসকেরা তাঁর চিকিৎসা করছেন।’

মহাসচিব বলেন, গত ২৩ নভেম্বর রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিএনপি চেয়ারপার্সনকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। পরীক্ষা নিরীক্ষায় বুকে ‘সংক্রমণ’ ধরা পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।

গত দুইদিন ধরে তার অবস্থা ‘সংকটপন্ন’ হলে বিএনপির পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে গতকাল শুক্রবার সারাদেশে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গতকাল রাতে চিকিৎসকগণ একটা মেডিকেল বোর্ডে সভা করেছেন। প্রায় আড়াই ঘন্টা ধরে তার চিকিৎসার ব্যাপারে সমস্ত চিকিৎসকদের মতামত নিয়ে তারা কথা বলেছেন। কিভাবে চিকিৎসা তারা করবেন এবং সেই চিকিৎসাটা কী ধরনের হবে সে বিষয়ে তারা মতামত দিয়েছেন নিজেদের মেডিকেল বোর্ডে।’

মহাসচিব বলেন, তাকে (বেগম খালেদা জিয়া)  বিদেশে নেয়া প্রয়োজন এ কথা চিকিৎসকগণ বলছেন যে, হয়ত প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু তার এখন যে শারীরিক অবস্থা সে অবস্থায় তাকে বিদেশে নেয়ার মত কোন শারীরিক অবস্থা নেই। শারীরিক অবস্থা আল্লাহর অশেষ রহমতে যদি স্টেবল হয় তখন চিন্তা করে দেখা হবে যে, তাকে বিদেশে নেয়া সম্ভব হবে কিনা। বিদেশে নেয়ার প্রস্তুতি কাজ সেরে রাখা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তবে বিদেশে নেয়ার জন্য যে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো রয়েছে আপনার ভিসা, অন্যান্য দেশের সঙ্গে যেসব দেশে যাওয়ার সম্ভব হতে পারে সেসব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের বিষয় নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে এবং সেগুলো মোটামুটি কাজ এগিয়ে আছে।

অর্থাৎ যদি প্রয়োজন হয় এবং যদি দেখা যায় শি ইজ রেডি টু ফ্লাই তখন তাকে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি আপনাদের মাধ্যমে গোটা দেশবাসীর কাছে জানাতে চাই যে, স্বাভাবিকভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী এবং তার অসুস্থতায় সব মানুষই উদ্বিগ্ন উৎকণ্ঠিত এবং অসংখ্য মানুষ হাসপাতালে ভিড় করছেন। এতে করে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকরা অত্যন্ত বিব্রত বোধ করছেন। তারা চিকিৎসা কার্য চালাতে ম্যাডামেরটা  এবং একসঙ্গে অন্যান্য যারা রোগী আছেন তাদের সেখানে বিঘ্ন সৃষ্টি করা হচ্ছে।'

মহাসচিব বলেন, সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে অনুরোধ জানাতে চাই যে, আপনারা কেউ দয়া করে হাসপাতালে ভিড় করবেন না। অনুগ্রহ করে বিএনপি নেতাকর্মী, তার শুভাকাঙ্ক্ষী বা দেশের মানুষ তারা দয়া করে হাসপাতালে ভিড় করবেন না। সময় মত আপনাদেরকে তার হেলথ বুলেটিন সম্পর্কে জানানো হবে এবং সেটা আপনারা জানবেন। কিন্তু আবার অনুরোধ করছি দয়া করে কেউ সেখানে উপস্থিত হবেন না।'