শিরোনাম

ঢাকা, ৩০ জুন ২০২৬ (বাসস): বদলী খেলোয়াড় গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলির ইনজুরি টাইমের গোলে জেদী জাপানকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে শেষ ষোল নিশ্চিত করেছে ফেবারিট ব্রাজিল।
আর্সেনাল উইঙ্গার মার্টিনেলি হিউস্টোনের ম্যাচে ৯৫ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন। আর এর মাধ্যমে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো জপানীজ দর্শককে হতাশ হতে দেখা যায়।
পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল আগামী রোববার নিউ জার্সিতে শেষ ষোল রাউন্ডে আইভরি কোস্ট বনাম নরওয়ের মধ্যকার বিজয়ী দলের মুখোমুখি হবে।
মিডফিল্ডার কাইসু সানোর ২৯ মিনিটে গোলে জাপান এগিয়ে গিয়েছিল। ব্রাজিলের মধ্যমাঠের ভুলে সানো বল কেড়ে নিয়ে একক প্রচেষ্টায় বল জালে জড়ান। হঠাৎ করেই স্টেডিয়াম ভর্তি হলুদ জার্সিধারী সমর্থকরা নিস্তব্ধ হয়ে যায়। কার্লো আনচেলত্তির দল বিরতির ১১ মিনিটের মধ্যে অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরোর হেডে ম্যাচে ফিরে আসে। দ্বিতীয়ার্ধে এক অন্য ব্রাজিলকে দেখা গেছে। শুরু থেকেই তাদের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মত। এরপর ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মার্টিনেলির জয়সূচক গোলে স্বস্তি ফিরে পায় পুরো ব্রাজিল শিবির।
বিশ্বকাপের ইতিহাস অবশ্য এই ম্যাচের আগে জাপানের পক্ষে ছিলনা। এর আগে কখনই ব্লু সামুরাইরা নক আউটে পর্বে কোনও ম্যাচ জিততে পারেনি। আর তাদের বিপরীতে ছিল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, পার্থক্যটা কিন্তু এখানেই। কিন্তু এটা ব্রাজিলের সেই ঐতিহ্যবাহী দল নয়। যদিও দলটি পরিচালনার দায়িত্বে আছেন পরীক্ষীত কোচ আনচেলত্তি। তবুও গ্রুপ পর্বের পারফরমেন্সে জাপানকে এবারের আসরের ডার্ক হর্স হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।
ব্যাকড্রপে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের একটানা ড্রামের শব্দ, সাথে ডাগ আউটে আনচেলত্তির ঠান্ডা মাথার একের পর এক কৌশল আর খেলোয়াড়দের দৃঢ় আত্মবিশ্বাস, এসবই ৬৮, ৭৭৭ দর্শকে ঠাসা হিউস্টোন স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের জয়ের জন্য যথেষ্ঠ ছিল।
বড় স্ক্রিনে যখনই দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমারকে বদলী বেঞ্চ থেকে দেখানো হয়েছে তখনই চারিদিকে গগনবিদারী চিৎকার শোনা গেছে।
ম্যাচের শুরুতে ডিফেন্সিফ মিডফিল্ডার সানো ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে পায়ে আঘাত করে হলুদ কার্ড দেখেন। পরের মিনিটে ব্রাজিলিয়ান এ্যাটাকার কুনহার শট ঠেকাতে বাধ্য হন গোলরক্ষক জিওন সুজুকি।
অক্টোবরে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারানো জাপানকে আজকের ম্যাচে খুঁজে পাওয়া যায়নি। দক্ষিণ আফ্রিকান জায়ান্টদের বিরুদ্ধে এটাই এশিয়ান পরাশক্তি জাপানের প্রথম জয়। ২৯ মিনিটে কাঙ্খিত গোলে এগিয়ে যায় হাজিমে মোরিয়াসুর দল। ডানিলোর ভুলে সানো বল কেড়ে নিয়ে সেন্টার থেকে দৌড়ে গিয়ে জোড়ালো শটে ব্রাজিল গোলরক্ষক এ্যালিসনকে পরাস্ত করেন। জাতীয় দলের হয়ে এটাই বুন্দেসলিগায় মেইঞ্জের হয়ে খেলা সানোর প্রথম গোল।
২০০২ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করা ব্রাজিল এক গোল হজম করে আরও নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে। প্রথমার্ধে উল্লেখযোগ্য কোন আক্রমনই তারা করতে পারেনি। যে কারনে বিরতির পর বাধ্য হয়েই একাদশে পরিবর্তন আনে আনচেলত্তি। লুকাস পাকুয়েটার স্থানে ১৯ বছর বয়সী এ্যাটাকিং মিডফিল্ডার এনড্রিক মাঠে নামেন।
গ্রুপ পর্বে তিউনিশিয়াকে পরাজিত ও নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের সাথে ড্র করে শেষ ৩২ নিশ্চিত করা জাপান দ্বিতীয়ার্ধে অনেকটাই রক্ষনাত্মক কৌশলে খেলতে থাকে। আর সেই সুযোগে ব্রাজিল তাদের উপর চড়াও হয়। জাপানীর ডিফেন্ডার তাকেহিরো টোমিয়াসু দুইবার লাইনের উপর থেকে বল ক্লিয়ার করেন।
৫৬ মিনিটে আর্সেনাল ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালহেসের ক্রসে ক্যাসেমিরো হেডের সাহায্যে গোল করে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান। ডেঞ্জারম্যান ভিনিসিয়াসের শট জাপানীজ রক্ষনভাগকে ফাঁকি দিয়ে সুজুকিকে পরাস্ত করলেও পোস্টে লেগে ফেরত আসে। তবে শেষ মুহূর্তে মার্টিনেলি দারুন এক গোলে ব্রাজিলকে জয় উপহার দেন।