শিরোনাম

ঢাকা, ১৪ জুন, ২০২৬ (বাসস): ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি কার্যালয়ের সামনে শনিবার সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে টেলিভিশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির দেওয়া সাক্ষাৎকারের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা তার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ফার্স নিউজ এজেন্সি প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনের সামনে কালো চাদর পরা নারীরা লাল ও কালো পতাকা নেড়ে স্লোগান দিচ্ছেন। তারা আব্বাস আরাকচির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে 'পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অপমানজনক মৃত্যু হোক, সে একজন অনুপ্রবেশকারী’—এই ধরনের স্লোগান দেন।'
এই বিক্ষোভ এমন এক সময় হয়েছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি শান্তি চুক্তির কথা বলছে। তবে ইরানের ভেতরে কট্টরপন্থী কিছু মহল এই চুক্তির বিরোধিতা করছে।
তাদের দাবি, এই চুক্তি ইরানের স্বার্থ রক্ষা করবে না এবং হরমুজ প্রণালীতে তাদের কৌশলগত প্রভাব কমিয়ে দেবে। পাশাপাশি তাদেট অভিযোগ, চুক্তি করতে গিয়ে ইরানি আলোচকরা অতিরিক্ত ছাড় দিয়েছেন।
এর আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে শুক্রবার দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাকচি বলেন, আলোচনার টেবিলে থাকা চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। এই অবরোধটি মূলত হরমুজ প্রণালীতে ইরানের আরোপিত অবরোধের জবাবে আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।
তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীর প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা আগের মতো থাকবে না।’ তিনি এই জলপথকে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধের হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে (যেগুলোর সত্যতা এএফপি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি) দেখা যায়, তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে লোকজন ‘আরাকচি, পদত্যাগ করো’ এবং ‘গালিবাফ, পদত্যাগ করো’ স্লোগান দিচ্ছেন। বাঘের গালিবাফ ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং প্রধান আলোচক হিসেবে পরিচিত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান শনিবার জানায়, যুদ্ধ শেষ করার জন্য প্রস্তাবিত চুক্তিটি রোববারই স্বাক্ষর হতে পারে। তবে তেহরান এ বিষয়ে সময়সূচি নিয়ে তুলনামূলকভাবে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং নিশ্চিতভাবে কোনো তারিখ ঘোষণা করেনি