বাসস
  ১৭ মার্চ ২০২৬, ১৩:৩৬

পবিত্র শবে কদর পালিত

ঢাকা, ১৭ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা, এবাদত বন্দেগী ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারা দেশে পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদর, ১৪৪৭ হিজরী পালিত হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যা থেকে পুরো রাতব্যাপী দেশের মুসলিম সম্প্রদায় পবিত্র শবে কদর পালন করে।

সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অসীম দয়ালু মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ্-তা’লার নৈকট্য ও রহমত লাভের আশায় নফল নামাজ ও জিকির-আজগরের মাধ্যমে পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাতটি কাটান। এই রাতে মসজিদে-মসজিদে ও বাসায় রাতব্যাপী ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকেন নারী-পুরুষরা। মোনাজাতে মুসল্লিরা চোখের পানিতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। 

মহিমান্বিত এই রাতে মসজিদগুলোতে মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এ সময় অভিভাবকদের সঙ্গে শিশুরাও নামাজ ও তাসবিহ-তাহলিলে অংশ নেয়।

পরম করুণাময় মহান আল্লাহ্ তা’য়ালা লাইলাতুল কদরের রাতকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন। হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও এ রাতের ইবাদত উত্তম। 

এই রাতে পরম করুণাময় আল্লাহর অশেষ রহমত ও নিয়ামত বর্ষিত হয়। 

পবিত্র এই রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় এবাদত-বন্দেগি করে থাকেন।

রমজান মাসের লাইলাতুল কদরে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছিল। তাই মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মসজিদসহ বাসা-বাড়িতে এবাদত বন্দেগিতে মশগুল ছিলেন।

সারা দেশের মুসলমানরা নফল নামাজ আদায়, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আসকার, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের মধ্য দিয়ে পবিত্র এই শবে কদরের রজনী কাটান।

পবিত্র শবে কদর (লাইলাতুল কদর) উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসী ও বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। 

বাণীতে তিনি লাইলাতুল কদরের অসীম রহমত ও বরকত কামনা করে এই রাতের শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

পবিত্র শবে কদর উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি রেডিও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে। 

সংবাদপত্রগুলোতেও প্রকাশিত হয়েছে শবে কদরের মহিমা নিয়ে বিশেষ নিবন্ধ ও সম্পাদকীয়।

লাইলাতুল কদর উপলক্ষ্যে আজ সরকারি ছুটি পালন করা হচ্ছে।

পবিত্র শবে কদর ১৪৪৭ হিজরি উদযাপন উপলক্ষ্যে রোববার বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

পবিত্র শবে কদর উপলক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

মাগরিবের নামাজ শেষে দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনুর রশীদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে লাইলাতুল কদরের ফজিলত, গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে ওয়াজ করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।

ওয়াজ শেষে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

এ ছাড়া শবে কদর উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, ইসলামিক মিশন কেন্দ্র ও ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতেও আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

বিশেষ করে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়। মসজিদের প্রবেশ পথগুলোতে র‌্যাব ও পুলিশসহ সাদা পোশাকে থাকা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কড়া নজরদারি করেন।

মুসুল্লিদের সঙ্গে থাকা জায়নামাজ ছাড়া অন্য কোনো ব্যাগ বা সামগ্রী ডিটেক্টর মেশিন দিয়ে তল্লাশি করা হয়।