শিরোনাম

ঢাকা, ২৭ জুন, ২০২৬ (বাসস) : অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত পার্বত্য অঞ্চল গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন।
তিনি বলেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পার্বত্য তিন জেলায় দুর্নীতি, অনিয়ম, লুটপাট হয়েছে। পার্বত্য তিন জেলাকে অবহেলা করা হয়েছে। কিন্তু জনগণের নির্বাচিত বর্তমান সরকারের সময়ে তা আর হতে দেওয়া হবে না।
তিনি আজ রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স অডিটরিয়ামে ‘পাহাড়ি ফল মেলা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ‘পাহাড়ি ফলের ঘ্রাণ, বৈচিত্র্যময় প্রাণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ‘পাহাড়ি ফল মেলা ২০২৬’।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পাহাড় ও সমতলের মানুষের সমন্বয়ে পার্বত্য অঞ্চলের জীবনমান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করব। অতীতে তিন পার্বত্য জেলায় ১ হাজার ৭৪টি নামসর্বস্ব বা ছোট ছোট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল, যা কোনো বাস্তবসম্মত উন্নয়ন আনেনি। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনর্থক স্কিম দেওয়া-নেওয়ার হার কমিয়ে আনা হবে এবং বাস্তবসম্মত ও গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতের আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে স্কুলগামী কন্যা শিক্ষার্থী, প্রসূতি মা ও বৃদ্ধদের ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতি উপজেলায় নারীদের জন্য আরও একটি করে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।
আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা যাতে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে, সেজন্য ই-লার্নিং শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
মীর হেলাল বলেন, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের সুপেয় পানির সংকট দূর করতে সারফেস ওয়াটারকে (উপরিভাগের পানি) কাজে লাগিয়ে প্রতিটি অঞ্চলে সুপেয় পানির সুব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, পাহাড়ি কৃষকদের উৎপাদিত ফল ও কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ‘ইকো-ফ্রেন্ডলি মিনি কোল্ড স্টোরেজ’ নির্মাণ করা হবে, যা কৃষকরা সমিতির মাধ্যমে পরিচালনা করবেন। এছাড়া অবিক্রিত ফল দিয়ে ‘ড্রাই ফুড’ তৈরি করে দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক বাজারে বিপণনের ব্যবস্থা করা হবে।
পার্বত্য জেলাগুলোতে ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও তথ্য কমপ্লেক্স গড়ে তোলা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে ডরমেটরি স্থাপন, তিনটি জেলায় মাল্টিপারপাস ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্র, রাঙ্গামাটিতে একটি ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় আধুনিক ‘তথ্য কমপ্লেক্স’ গড়ে তোলা হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, বান্দরবান পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য সাচিং প্রু এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাধবী মার্মা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো.মনিরুল ইসলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরাসহ মন্ত্রণালয় ও পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
উল্লেখ্য, তিন দিনব্যাপী এই মেলায় বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার দুর্গম অঞ্চল থেকে আগতরা মোট ৩০টি স্টল অংশ নিয়েছে।
আগামী ২৯ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য মেলা সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় মেলা প্রাঙ্গণে থাকছে পার্বত্য অঞ্চলের নৃ-গোষ্ঠীর স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় ঐতিহ্যবাহী মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।