বাসস
  ২৪ জুন ২০২৬, ২২:৪৭

দূষিত বর্জ্যে বন্ধ কারখানা এলাকায় নজরদারিতে টিম গঠন হবে : পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

ছবি : বাসস

ময়মনসিংহ, ২৪ জুন, ২০২৬ (বাসস) : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, কলকারখানার দূষিত বর্জ্যে যেসব এলাকার চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে, সেখানে কড়া নজরদারির জন্য বিশেষ টিম গঠন করতে হবে।

তিনি বলেন, পানি দূষণ রোধে ইটিপি (বর্জ্য শোধনাগার) ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। নতুন করে কোনো মিল-কারখানার দূষিত বর্জ্য বা পানি যেন আশপাশের কৃষিজমিতে ছড়াতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এ কারণেই কারখানা এলাকায় নিয়মিত তদারকির জন্য টিম গঠন করা দরকার।

আজ দুপুরে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা পরিষদ হলরুমে ‘পরিবেশ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব ও তা থেকে উত্তরণের কার্যকর পদক্ষেপ’ বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, ভালুকার শিল্পাঞ্চলের আশেপাশে যত প্রাণ প্রকৃতি আছে বিশেষ করে পানির সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় সবই বিলীনের পথে। কারখানার আশপাশের এলাকায় দূষিত বর্জ্যে সয়লাব হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ভরাডোবা এলাকার ‘এক্সপেরিয়েন্স’, ‘হ্যারী ফ্যাশন’ ও ‘মুলতাজিম’ নামের তিনটি কারখানার কারণে আশপাশের প্রায় সাড়ে ৩শ’ একর জমি দূষিত বর্জ্যের কারণে অনাবাদি রয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১ হাজার পরিবারের লোক জন। এসব কারখানার লাগাম এখনই টেনে ধরতে হবে। কারখানার দূষিত বর্জ্য নির্গত পানির নালাগুলো আজকের মধ্যে সীলগালা করে দিতে হবে। তা করা না হলে ওই সব কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো অবস্থাতেই কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য খাল, নদী বা কৃষিজমিতে ফেলা যাবে না। আমরা চাই না কোনো পক্ষের প্রতিপক্ষ হতে। এখানকার ডাইং ফ্যাক্টরিসহ যেসব শিল্পকারখানায় রাসায়নিক বা কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো কোনোভাবেই অপরিশোধিত অবস্থায় নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে ফেলা চলবে না।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সতর্ক করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা অবশ্যই চেষ্টা করবো এই বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য। এ কাজে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা যদি সহযোগিতা না করে তাহলে তাদেরকে আমরা এখানে রাখবো না। দায়িত্বহীনতার জন্য তাদের বিরুদ্ধে অধিদপ্তর থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নতুন করে আরেক জনকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, যিনি সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, এত সুন্দর ও সুজলা, সুফলার এই জনপদকে বিরামহীন করা যাবে না। সরকারের পক্ষ থেকে এতটুকু বলব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তার আলোকে যত তথ্য উপাত্ত আছে সেটা সঠিক ভাবে তুলে ধরবো এবং আন্তঃমন্ত্রণালয়ে আলোচনার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থাকার চেষ্টা করা হবে।

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফিরোজ হোসেন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ভালুকা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক কামরুল হাসান পাঠান কামাল, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হাসান রাসেল, কৃষক প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার মো. রুহুল আমীন, মো. শামছুদ্দিন মন্ডল, মোহাইমেনুল ইসলাম তালুকদার ও আবুল বাশার বক্তব্য রাখেন। এছাড়া এক্সপেরিয়েন্স কারখানার আইন উপদেষ্টা এজাজ উদ্দিন এবং মুলতাজিম মিলের প্রতিনিধি পুলকময় মজুমদারও সভায় বক্তব্য দেন।