শিরোনাম

ঢাকা, ২৪ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সঙ্গে দেশের চলমান কর্মসূচি সঠিক পথেই রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী মাসগুলোতে এই কর্মসূচি আরও পর্যালোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। আর্থিক খাতকে স্থিতিশীল করতে ও প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নিচ্ছে সরকার।
তিনি বলেন, ‘আমাদের আগে থেকেই আইএমএফ’র সঙ্গে একটি কর্মসূচি রয়েছে এবং তা চলমান রয়েছে।’
আজ সচিবালয়ে আইএমএফের সফররত এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি জানান, আইএমএফ এই কর্মসূচিটি গত কয়েক বছর ধরে চলছে এবং এটি অব্যাহত থাকবে। আগামী জুলাই মাসে এর পরবর্তী পর্যালোচনার সময় নির্ধারিত রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মসূচির শর্তাবলি ও বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের অর্থনীতির খারাপ অবস্থা আমরা পেয়েছি। বিশেষ করে ব্যাংকিং সেক্টর, শেয়ারবাজার খারাপ অবস্থায় আছে এবং কর-জিডিপি হারও অনেক কম হওয়ার কারণে দেশ একটি কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি।
তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লিখিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে কাজ করছে, যেখানে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, ব্যবসা সহজীকরণ এবং ব্যবসার খরচ কমানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ‘অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব সংকট উত্তরণ সম্ভব। আমরা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসুচি যেমন-ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বিতরণ, কৃষি ঋণ মওকুফ নিয়ে কাজ করছি।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, আগের অন্তর্বর্তী সময়ে আর্থিক সংকটের কারনে স্থগিত হয়ে যাওয়া অনেক উন্নয়ন প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করতে হবে, যা বৃহত্তর পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টার অংশ।
তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পগুলো পুনরায় চালু করতে হলে আমাদের আর্থিক সংস্কার করতে হবে এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল অবস্থানে আনতে হবে।’ তিনি জানান, আগামী বাজেটেই এসবের প্রতিফলন থাকবে।
আইএমএফের অর্থায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরবর্তী কিস্তি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং পর্যালোচনার ওপর নির্ভর করে জুনের মধ্যে প্রায় ১.৩ বিলিয়ন ডলার পাওয়া যেতে পারে। তিনি জানান, এপ্রিল মাসে ওয়াশিংটনে আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে এ বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রমজান শুরু হয়েছে এবং যুদ্ধ শুরু হয়েছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে কিন্তু জ্বালানি সংকট থাকা সত্ত্বেও এবার ঈদে পরিবহন সংকট হয়নি, পরিবহন ভাড়া বাড়েনি মানুষ নির্বিঘ্নে বাড়ি যেতে এবং ফিরতে পেরেছে।
তিনি আরও বলেন, এবার রমজানে দ্রব্যমূল্যও স্থিতিশীল ছিল। এবার পোশাক শ্রমিকদের বেতন নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়নি। পোশাক কারখানা থেকে সঠিক সময়ে শ্রমিকদের বেতন দেয়া হয়েছে তাই কোন সমস্যা তৈরি হয়নি।
সমষ্টিগত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, চলমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নাগরিকদের সহযোগিতা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, ‘সরকার একা সব কিছু করতে পারবে না। জনগণের সহযোগিতা ও ধৈর্য প্রয়োজন। বৈশ্বিক অনেক বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে হলেও আমরা একসঙ্গে এই সংকট মোকাবিলা করতে পারব।’
এক প্রশ্নের জবাবে কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন বলেন, অর্থায়ন সংক্রান্ত আলোচনা নীতিগত সম্পৃক্ততার ওপর ভিত্তি করে হয় এবং অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের অনিশ্চয়তা সব দেশের ওপরই প্রভাব ফেলে, বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।
তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ সব দেশের জন্যই অনিশ্চয়তা তৈরি করে, বাংলাদেশও একই পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইএমএফ বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাবে।