BSS-BNhrch_cat_news-24-5
বাসস
  ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১০:১৫

গোপালগঞ্জে সার ও কীট নাশক সাশ্রয়ী চাষাবাদে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন বাড়ছে 

॥ মনোজ কুমার সাহা ॥
টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ), ৩ অক্টোবর, ২০২২ (বাসস): গোপালগঞ্জে আমনে সেচ,সার ও কীট নাশক সাশ্রয়ী চাষাবাদে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পদ্ধতিতে কৃষককে নতুন জাতের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ চাষাবাদে সুষম সার ব্যাবহার করা হচ্ছে। সমন্বিত পদ্ধতির মাধ্যমে কীট নাশক প্রয়োগ হয়। এভাবে চাষাবাদে সার ও কীট নাশক সাশ্রয় হয়। কৃষক কম খরচে ফসলের অধিক ফলন পেয়ে লাভবান হচ্ছেন। এ পদ্ধতিতে উৎপাদিত খাদ্য মানব দেহের জন্য নিরাপদ। এ ভাবেই নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করে যাচ্ছে  গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিস।  
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সেকেন্দার শেখ বলেন, রাজস্ব খাতের আওতায় সদর উপজেলায় আমন ধানের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য চলতি বছর উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান দিয়ে ৮০টি প্রদর্শনী প্লট করা হয়েছে। এসব প্লটে আমরা বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ব্রিধান-৮৭সহ বিভিন্ন প্রজাতির ধান কৃষকদের দিয়ে আবাদ করিয়েছি। এখানে আমরা প্রতি প্লটে ধান বীজ , সার বিনামূল্যে প্রদান করেছি। সেই সাথে কৃষককে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আমরা নিয়মিত প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শণ করছি। এছাড়া ধান পরিচর্যা করার জন্য কৃষককে সরকারি বরাদ্দের টাকা প্রদান করেছি। এর মাধ্যমে আমরা কৃষককে উচ্চ ফলনশীল জাতের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি। এ চাষাবাদে সারের সুষম ব্যবহার কৃষককে শিখিয়েছি । সেই সাথে কীট নাশক সমন্বিত পদ্ধতিতে প্রয়োগের কৌশল আয়ত্ত্ব করছে কৃষক। বর্ষাকালে আমনের চাষাবাদ হয়। তাই এ চাষাবাদে সেচ তেমন লাগে না। এ ভাবে সাশ্রয়ী  চাষাবাদ করে কৃষক অধিক ফসল পেয়ে লাভবান হচ্ছেন। আগামী বছরের চাষাবাদের জন্য কৃষক এখান থেকে বীজ রাখতে পারছেন। কীট নাশকের বিষক্রিয়া এ ফসলে থাকে না। এ পদ্ধতিতে উৎপাদিত ধানের চাল মানব দেহের জন্য নিরাপদ। আমরা প্রতিবছর এ পদ্ধতির চাষাবাদ সম্প্রসারণ করছি।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা ইউনিয়নের ঘোনাপাড়া গ্রামের কৃষক গনেশ বিশ্বাস (৫২) বলেন, আগে আমরা চাষাবাদে মাত্রাতিরিক্ত সার ও কীট নাশক প্রয়োগ করতাম। কিন্তু এ পদ্ধতির চাষাবাদে আমরা কৃষি বিভাগের পরামর্শে পরিমানমত সার কীট নাশক প্রয়োগ করেছি। ধান  রোপণের ৪৫ দিন ও ৬৫ দিনের মাথায় মাত্র দু’ বার কীট নাশক ব্যবহার করেছি। এতে সার ও কীট নাশক খরচ সাশ্রয় হয়েছে। আমন চাষে সেচ প্রয়োজন হয় না। গত আমন মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল আমন জাতে প্রচলিত জাতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুন ফলন পেয়েছিলাম। কম খরচে ধানের অধিক ফলন পেয়ে লাভবান হয়েছি। এখান থেকে আমি বীজ ধান রেখে ছিলাম। এ পদ্ধতির চাষাবাদ আমি গ্রহণ করেছি। গত বছরের বীজ দিয়ে এ বছর চাষাবাদ করেছি। আশপাশের কৃষক এ পদ্ধতির চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। 
একই  গ্রামের কৃষক পরিতোষ বিশ্বাস (৫৫) বলেন, আমাদের ব্লকে গত বছর  এ পদ্ধতিতে ধান চাষ করে এখানকার কৃষকরা লাভবান হন। এ বছর কৃষি অফিস থেকে ৫ কেজি বীজ, ২৫ কেজি ইউরিয়া, ১৬ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি, ১০ কেজি জিপসাম ও ১ কেজি দস্তা সার বিনামূল্যে পেয়েছি। প্রশিক্ষণ শেষে ১ বিঘা জমিতে (৩৩ শতাংশ)  ব্রি-৮৭ জাতের ধানের  প্রদর্শনী প্লট করেছি। এরপর পরিচর্যা ও কীটনাশক প্রয়োগের জন্য কৃষি অফিস থেকে  টাকা দিয়েছে। তারা সুষম সার ও কীট নাশক প্রয়োগ করাচ্ছেন। নিয়মিত গোবরা ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পার্বতী বৈরাগী সহ কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পরিদর্শনে আসছেন। তারা প্রতিটি পদক্ষেপ হাতে কলমে শিখাচ্ছেন। ক্ষেতের আমন ফসল ভালো দেখা যাচ্ছে । আশা করছি বাম্পার ফলন পাব। 
গোবরা ইউনিয়ন সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পার্বতী বৈরাগী বলেন, এ পদ্ধতির চাষাবাদের প্রতিটি ধাপ আমরা কৃষককে হাতে কলমে শিখিয়ে দিচ্ছি। কৃষক এটি গ্রহণ করে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করছেন। তারা লাভবান হচ্ছেন। এতে জেলার কৃষি সমৃদ্ধ হচ্ছে। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়