BSS-BNhrch_cat_news-24-5
বাসস
  ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৭:০৮

মধুমতি নদীর সঙ্গে পাঁচুড়িয়া খালের পুণঃসংযোগ : খুশি গোপালগঞ্জবাসী

টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ), ১ অক্টোবর, ২০২২ (বাসস): জেলা শহরের পাঁচুড়িয়া পৌর নিউ মার্কেট এলাকায় খালের সঙ্গে মধুমতি নদীর পুণঃসংযোগ কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।শনিবার সকালে উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা। 
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত পাঁচুড়িয়া খাল দীর্ঘ ৬৩ বছর পর যৌবন ফিরে পাবে, তাই শহরবাসীর মধ্যে খুশির বন্যা বইছে। এ সময় পৌর মেয়র শেখ রকিব হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাজমুন নাহার, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ রুহুল আমিন, গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.জাহিদ হোসেন, এলডিইজির নির্বাহী প্রকৌশলী মো.এহসানুল হক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফাইজুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোহসীন উদ্দিন, সহকারি কমিশনার(ভূমি) মো. মামুন খানসহ পৌর কাউন্সিলরগণ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। 
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাঁচুড়িয়া খাল দিয়ে টুঙ্গিপাড়া থেকে নৌপথে গোপালগঞ্জ আসা যাওয়া করতেন। ১৯৫৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার এ খালটির মুখ বন্ধ করে দেয়।খালটির পানি প্রবাহ বন্ধ থাকায় দখল আর দূষণে মৃতপ্রায় হয়ে গিয়েছিল। 
দীর্ঘ ৬৩ বছর পর এ খালটির বন্ধ মুখ অবমুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহন করে জেলা প্রশাসন। এতে দুষণ আর দখলের হাত থেকে রক্ষা পাবে খালটি। দীর্ঘদিন খালের দুই পাড়ে বসবাস করা মানুষ দুর্গন্ধ মুক্ত নির্মল বাতাস উপভোগ করতে পারবেন।খালের পানি দিয়ে তারা নিত্যদিনের প্রয়োজন মিটাতে পারবেন।খালের মাছ ধরে মৎস্যজীবীরা জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন। এতে নৌ চলাচলের সুবিধাসহ মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।
খালের মুখ উন্মুক্ত করার খবরে বিপুল সংখ্যক মানুষ খাল পাড়ে ভীড় করেন। তাদের চোখে মুখে ছিলো আনন্দ ও উচ্ছ্বাস।দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর দাবী থাকলেও খালটি দুষণ আর দখলের হাত থেকে রক্ষায় উদ্যোগ নেয়নি কেউ।  
গোপালগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. রকিব হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটির পানি প্রবাহ আটকে রাখায় কুচুরিপনা ও ময়লার স্তুপ তৈরী হয়েছিলো। দখলে ছোট হয়ে যাচ্ছিল খালটির প্রশস্থতা।পানি পচে দুর্গন্ধ ও মশামাছির প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিলো শহরের মধ্যদিয়ে প্রবাহমান খালটি। 
তিনি আরো বলেন, পৌর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের পর খালটির ময়লার স্তুপ অপসারণ ও কুচুরিপনা পরিস্কারের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়। পরবর্তিতে খালটি পানি প্রবাহ পুণঃস্থাপনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আজ থেকে একাজ শুরু হয়েছে। পরবর্তিতে এই এলাকার সৌন্দয্র্ বর্ধনসহ নানাবিধ কাজ করা হবে। এটি শহরবাসীর পছন্দের স্থান হবে।
জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত পাঁচুড়িয়া খালটিতে দীর্ঘদিন ধরে পানি প্রবাহ বন্ধ থাকায় দুষণ আর দখলে খালটি সংকীর্ণ হয়ে পড়েছিলো। আমরা মধুমতি নদীর সঙ্গে খালটি পুণঃসংযোগ স্থাপন করে অবাধ পানি প্রবাহের উদ্যোগ নিয়েছি।এ খালটিকে ঘিরে নানামুখি উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে।এটি শহরবাসীর একটি দর্শনীয় স্থান হবে। এছাড়া জেলাবাসী খালটিকে নানামুখি কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।
 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়