BSS-BNhrch_cat_news-24-5
বাসস
  ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪:৫৬

জাপানিজ হোসি কুনিও হত্যা মামলায় আাসামি ইছাহাক আলীর খালাসের রায় স্থগিত

ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ (বাসস): রংপুরে জাপানি নাগরিক হোসি কুনিও খুনের মামলায় জেএমবি সদস্য ইছাহাক আলীকে খালাস দিয়ে দেয়া হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
ওই আাসামির খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্ট বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহমান আজ এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আহসান উল্লাহ।
গত ২২ সেপ্টেম্বর হোসি কুনিও খুনের মামলায় জেএমবি সদস্য ইছাহাক আলীকে খালাস দেয়া হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর হোসি কুনিও খুনের দায়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি'র চার জঙ্গির মৃত্যুদন্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বিচারিক আদালতের মৃত্যুদন্ড থেকে ইছাহাক আলীকে খালাস দেন হাইকোর্ট। 
রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোসি খুনের দায়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) পাঁচ জঙ্গির মৃত্যুদন্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানি শেষ হয় গত ১৯ সেপ্টেম্বর। গত ৪ সেপ্টেম্বর রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোসি খুনের দায়ে জেএমবি পাঁচ জঙ্গির মৃত্যুদন্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানি শুরু হয়।
২০১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রংপুরের বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্র সরকার জাপানি নাগরিক কুনিও হোসি হত্যার দায়ে জেএমবি পাঁচ জঙ্গিকে মৃত্যুদন্ড দেন। পরে মৃত্যুদন্ডের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদন্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য নথি) হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি আসামিরা আপিল ও জেল আপিল করেন।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন: জেএমবির পীরগাছার আঞ্চলিক কমান্ডার উপজেলার পশুয়া টাঙ্গাইলপাড়ার মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী, বগুড়ার গাবতলী এলাকার লিটন মিয়া ওরফে রফিক, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কুড়িগ্রামের রাজারহাটের মকর রাজমাল্লী এলাকার আহসান উল্লাহ আনসারী ওরফে বিপ্লব এবং গাইবান্ধার সাঘাটার হলদিয়ার চর এলাকার সাখাওয়াত হোসেন। দন্ডপ্রাপ্ত বিপ্লব পলাতক। হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় এর আগে খালাস পান পীরগাছার কালীগঞ্জ বাজারের আবু সাঈদ।
চার্জশিটভুক্ত আট আসামির মধ্যে অন্য দু’জন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাদের মামলার অভিযোগ থেকে বাদ দিয়ে রায় ঘোষিত হয়। তারা হলেন: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের গজপুরি এলাকার নজরুল ইসলাম ওরফে হাসান ওরফে বাইক হাসান ও কুড়িগ্রামের রাজারহাটের চর বিদ্যানন্দ এলাকার সাদ্দাম হোসেন ওরফে রাহুল ওরফে চঞ্চল ওরফে সবুজ ওরফে রবি।
জেএমবির ওই আট জঙ্গির বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ৭ আগস্ট রংপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। পরে মামলাটি রংপুরের বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্র সরকারের আদালতে স্থানান্তরিত হলে ২০১৬ সালের ১৫ নভেম্বর আসামিরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। মামলায় বাদীপক্ষের ৫৫ জন সাক্ষী এবং আসামিপক্ষের একজন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত।
২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর সকালে জাপানি নাগরিক হোসি কুনিওকে কাউনিয়া উপজেলার আলুটারি এলাকায় গুলি করে হত্যা করেন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির জঙ্গিরা।
 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়