বাসস
  ২৯ জুলাই ২০২২, ১১:০৭

দেশের প্রথম গিমাডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিক এখন মডেল

॥ মনোজ কুমার সাহা ॥
টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ), ২৯ জুলাই, ২০২২ (বাসস) : দেশের প্রথম কমিউনিটি ক্লিনিক গিমাডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিক। বিগত ২১ বছর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকটি মডেল কমিউনিটি ক্লিনিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এখান থেকে গড়ে প্রতিদিন ৫৫ জন রোগী স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন। কর্মীরা হাসিমুখে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেন। সেবা গ্রহিতারা এখানে এসে সহজে সব ধরণের সেবা পান। এখন থেকে রোগীদের বিনামূল্যে ৩০ প্রকার ওষুধ দেয়া হয়। এ কমিউনিটি ক্লিনিকে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা সেবা, টিকাদান কর্মসূচি, পুষ্টি, স্বাস্থ্য শিক্ষা পরামশসহ বিভিন্ন প্রকারের স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হয় । মডেল এ কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবায়  শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হার কমেছে। ক্লিনিকটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ উদ্যোগে ২০০০ সালে  গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ৬ হাজার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দোড়গোরায় পৌঁছে দিতে ঢাকা-টুঙ্গিপাড়া সড়কের পাশে গিমাডাঙ্গার মল্লিকেরমাঠ এলাকায় গিমাডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিক উদ্বোধন করেন। তারপর থেকে এখানে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম শুরু হয়। ওই ইউনিয়নের ৩টি ওয়ার্ডের প্রায় ৮ হাজার মানুষ এখান থেকে স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছেন।
গিমাডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার মোঃ হাসিবুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাড়ির পাশের এ ক্লিনিকটি দেশের প্রথম কমিউনিটি ক্লিনিক। এখানে আগত সেবা গ্রহিতাদের বিশেষ কেয়ার করা হয়। এ কারণে ক্লিনিকটি সারাদেশের মডেল ক্লিনিকে পরিণত হয়েছে। এ ক্লিনিক থেকে প্রতিদিন ৫৫ জন রোগীকে বিনামূল্যে  চিকিৎসা সেবা ও ৩০ প্রকার ওষুধ দেয়া হয়।
প্রচলিত সেবার পাশাপাশি ভাইটাল রোগ ডায়বেটিস ও হাইপার টেনশনে অক্রান্তদের এখনে প্রাথমিক পরীক্ষা করা হয়। তারপর তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা ও জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রয়োজনে রোগীদের ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল সরকারি হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা আমরা করে দেই।
গিমাডাঙ্গা গ্রামের গৃহবধূ সিফাতুন্নেছা (৫২) বলেন, সর্দি, কাশি,জ্বর, আমাশয়, ডায়রিয়া, ব্যাথাসহ সাধারণ সব রোগের চিকিৎসা ও পরামর্শের জন্য ঘরের পাশের কমিউিনিটি ক্লিনিকে যাই। এখানে কর্মীরা হাসি মুখে সেবা দেন। সহজে সব ধরণের চিকিৎসা সেবা  ও ওষুধ পাওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি করে দিয়েছেন। এজন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা ও আমাদের টুঙ্গিপাড়ার গর্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের নিমরোজ (৪৫) বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক আমাদের স্বাস্থ্যসেবাকে সহজ করে দিয়েছে। গিমাডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত সবাই আন্তরিক। এখান থেকে আমরা চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি সব ধরণের স্বাস্থ্য শিক্ষা পরামর্শ পেয়ে উকৃত হচ্ছি। এতে আমরা সংক্রামিত রোগ প্রতিরোধ করতে পারছি। পরিবারের সদস্যরা তুলনা মুলকভাবে কম অসুস্থ হচ্ছে। চিকিৎসা ব্যয় কমেছে। জটিল ও কঠিন রোগ নিয়ে এ কমিউনিটি ক্লিনিকে গেলে তারা সু পরামর্শ দেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য  গোপালগঞ্জ, ঢাকা, খুলনা, বরিশালের সরকারি চিকিৎসকদের সাথে লিংক করিয়ে দেন। এতে আমরা খুবই উপকৃত হই। কমিউনিটি ক্লিনিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন্তার ফসল।  কমিউনিটি ক্লিনিক করে দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাই।
গিমাডাঙ্গা গ্রামের হানিফ (৪০) বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক ছোট একটি ক্লিনিক । কিন্তু এখানে সেবার পরিধি ব্যাপক। গিমাডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা বান্ধব পরিবেশ আছে। তাই এখান থেকে থেকে  সব ধরণের স্বাস্থ্য সেবা পেয়ে আমরা ধন্য। এ কারণে কমিউনিটি ক্লিনিকের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমরা বিশেষ কৃতজ্ঞ।
কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা  ট্রাস্টের সভাপতি অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী গিমাডাঙ্গা মডেল কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শণ করে বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক গ্রামের মানুষের জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি কল্যাণকর উদ্যোগ। এটি জীবন বাঁচাতে সহায়তা করছে। শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হার কমাতে ভূমিকা রাখছে। গ্রামের মানুষের রোগ প্রতিরোধে কাজ করে চলেছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার মান আরো গতিশীল করতে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা কমিউনিটি ক্লিনিক মনিটরিং ও সুপাভিশনের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোড়গোরায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেব।