BSS-BNhrch_cat_news-24-5
বাসস
  ০৩ জুলাই ২০২২, ২০:১১

সুনামগঞ্জে বন্যার্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ তৎপরতা ও স্বাস্থ্য সেবা অব্যাহত

সিলেট, ৩ জুলাই, ২০২২ (বাসস) : সুনামগঞ্জে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গত মানুষের মাঝে সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত আছে।
চলতি মৌসুমে দু দফা বন্যার কবলে পড়ে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাওর অধ্যুষিত এলাকা সুনামগঞ্জের মানুষ। চলতি বন্যার শুরু থেকে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যাক্তি উদ্যোগে জোরালোভাবে ত্রাণকার্য্য অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া বন্যা দুর্গত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা দিতে বন্যার শুরু থেকে এপর্যন্ত ১২৩টি সরকারি মেডিকেল টিম মাঠে কাজ করছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জ জেলায় মানবিক সহায়তা হিসেবে বিতরণের লক্ষ্যে সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক গত ১৬ জুন থেকে এর মধ্যে ৩ জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৩শ ৫৬ মেঃ টন চাল, ২৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও নগদ ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ইতিমধ্যে ১১ উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে বিতরন করা হয়েছে। এছাড়াও  প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে আরও ৫৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। 
সুনামগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জেলায় বন্যায় ঘর হারানোদের ঘর মেরামতের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ইতোমধ্যে ৫ হাজার পরিবারের জন্য ৫ কোটি টাকা  বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। এবারের বন্যায় ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জ জেলায় ৩০ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবী করেছে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখার লিখিত এক পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়, সুনামগঞ্জে অকাল বন্যায় জেলার ১১টি উপজেলার ৮৮টি ইউনিয়নে ৯০ হাজার পরিবার, সাড়ে ৪ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়ে ৫৫ হাজার ৬ শত ৬০টি পরিবার। সারা জেলায় আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ২৫০টি। এতে ১২ হাজার পুরুষ, ১১ হাজার নারী, ৪ হাজার ৮শত শিশু, ২শত প্রতিবন্ধী আশ্রয় নেয়। দুর্গত একাকায় ১২৩টি মেডিকেল টিম শুরু থেকে এখন পর্যন্ত চালু আছে।বন্যার পানিতে তলিয়ে, বজ্রপাত ও বিদ্যুৎপৃষ্টে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে ১৫ জন লোক মৃত্যুবরণ করেছে। প্রসঙ্গত, টানা মৌসুমি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ জেলা সদরসহ ১২টি উপজেলা প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েন লাখ লাখ মানুষ। জীবন বাঁচাতে ঘর বাড়ি ছেড়ে অনেকেই কোন রকম প্রাণ নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে বন্যার পানির স্রোতের গতি এতটা ভয়াবহ ছিল যে, শুুধমাত্র  সুনামগঞ্জ জেলার প্রায় ৪৫ হাজার ২৮৮ টি ঘর বাড়ির ক্ষতি হয়েছে।
 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন