শিরোনাম

ঝালকাঠি, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদের কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করছেন ঝালকাঠির তরুণ-তরুণীরা। গত দেড় বছরে জেলার ছয়টি ব্যাচে ৩৭৫ জন প্রশিক্ষণার্থী ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তাদের মধ্যে প্রশিক্ষণোত্তর কাজে যুক্ত ১০০ জনকে নিয়ে ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ডিজিটাল ক্যারিয়ার কার্নিভাল ২০২৬’।
আজ বুধবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ কার্নিভালের আয়োজন করা হয়।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের বরিশাল বিভাগের তত্ত্বাবধানে এ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ঝালকাঠির উপপরিচালক মো. আলাউদ্দিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, পুলিশ সুপার মেরিন সুলতানা, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর।
প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে। ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণরা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। এ দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখা সম্ভব।
স্বাগত বক্তব্য দেন, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কিশোর চন্দ্র বালা। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন, জেলা আইসিটি কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ জেহাদী ও যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর মো. আলামিন।
আয়োজকেরা জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৬ টি ব্যাচে জেলার ৩৭৫ জন ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তাদের মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষে বিভিন্নভাবে আয় করছেন এমন ১০০ জনকে কার্নিভালে আমন্ত্রণ জানানো হয়। পাশাপাশি সপ্তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণার্থীসহ অনুষ্ঠানে ১৫০ জন অংশ নেন।
কার্নিভালে প্রতিটি ব্যাচ থেকে একজন করে মোট ৬ জনকে ‘টপ আর্নার’ হিসেবে নির্বাচিত করে সনদ ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এছাড়া বিতর্ক, পিচ প্রেজেন্টেশন ও ডিজাইন কম্পিটিশনে অংশ নেয়া ১৮ জন প্রশিক্ষণার্থীকে সনদ ও উপহার প্রদান করা হয়।
কার্নিভালে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ-তরুণীরা তাদের ফ্রিল্যান্সিংয়ের অভিজ্ঞতা, অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ডিজিটাল ক্যারিয়ার ও ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে তরুণদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বক্তারা বলেন, ডিজিটাল দক্ষতা এখন শুধু প্রচলিত চাকরির বিকল্প নয়, বৈশ্বিক কর্মবাজারে প্রবেশেরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রশিক্ষণ নিয়ে অর্জিত দক্ষতাকে বাস্তব কাজে প্রয়োগের মাধ্যমে তরুণেরা ফ্রিল্যান্সার হওয়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।