বাসস
  ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৪২
আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৪৪

সকল সম্প্রদায়ের সমস্যা-প্রয়োজনকে বিবেচনায় রেখেই সরকার নীতিমালা প্রণয়ন করছে : জন্মাষ্টমীতে অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আপনাদের (সনাতন ধর্মাবলম্বীদের) সমস্যাগুলোকে আমরা আলাদা করে দেখি না। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীসহ সব সম্প্রদায়ের সমস্যা ও প্রয়োজনকে বিবেচনায় রেখেই আমরা সরকারের নীতিমালা প্রণয়ন করছি। 

তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন, ইতোমধ্যে মসজিদে যে অনুদান দেওয়া হয়েছে, মন্দিরেও একইভাবে অনুদান দেওয়া হয়েছে। মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য যে সহায়তা দেওয়া হয়েছে, মন্দিরের পুরোহিতদেরও সে অনুদান দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ ধরনের উদ্যোগ আগে কখনো নেওয়া হয়নি। 

আজ বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর জে এম সেন হল প্রাঙ্গণে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত ‘ধর্মমহাসম্মেলন ও সুধী সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথম দিনের কর্মসূচিতে এ ধর্মমহাসম্মেলন ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 

মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম কৈবল্যধাম আশ্রমের মোহন্ত মহারাজ শ্রীমৎ কালীপদ ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম। 

অর্থমন্ত্রী বলেন, এই যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড-এখানে ধর্ম-বর্ণের কোনো বিষয় নেই। নির্ধারিত যোগ্যতার আওতায় যে পরিবার পড়বে, তারাই এই কার্ডের সুবিধা পাবে। এটি পরিবর্তনের সূচনা -এটি কেবল সূচনা, শেষ নয়। এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। 

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য ক্ষমতায় আসেনি। অনেক দিন পর বাংলাদেশে এমন একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়েছে, যেখানে দেশের সব সম্প্রদায় ও শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। নির্বাচনে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ এবং তাদের উপস্থিতিই তার প্রমাণ।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিগত দিনে একটি অরাজনৈতিক সরকারের কারণে সমাজে যে অবক্ষয় ও বিভেদের সৃষ্টি হয়েছে, তা একদিনে বা আগামীকাল সকালের মধ্যেই সমাধান হয়ে যাবে- এমনটা না। তবে আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে একটি নতুন ও উন্নত অবস্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। কারণ, সামাজিক সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে না পারলে কোনো দেশই প্রকৃত অর্থে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে না। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, সরওয়ার জামাল নিজাম, ভারতীয় হাই কমিশনের সহকারী হাই কমিশনার শ্রী হরিশ কুমার এবং চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।

সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লায়ন আর কে দাশ রুপু।

শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ধর্মতত্ত্ববিদ অধ্যাপক স্বদেশ চক্রবর্তী, অধ্যাপক রুপন ধর, উত্তম কুমার চক্রবর্তী, লায়ন তপন কান্তি দাশ, অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি, প্রকৌশলী আশুতোষ দাশ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন। এর এর আগে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে টিভি ও বেতারের শিল্পীবৃন্দ গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন।