বাসস
  ০৫ আগস্ট ২০২৬, ২০:৪১

শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা শিক্ষার মান ও কর্মসংস্থান বাড়াবে : ইউজিসি সদস্য ড. মামুন

ছবি : ইউজিসি

ঢাকা, ৫ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, গবেষণার সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানমুখী দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আয়োজিত ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া পারস্পরিক সহযোগিতা’ বিষয়ক সেমিনার এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আজ এ কথা বলেন।

অধ্যাপক ড. মামুন বলেন, ‘শিল্পখাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ ধরনের অংশীদারিত্ব শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী শিক্ষা, গবেষণা এবং কর্মক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করবে।’

তিনি বলেন, বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যবিপ্রবির এই যৌথ উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে আরও যুগোপযোগী করবে এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বহুগুণে বৃদ্ধি করবে।

তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে ইউজিসি সদস্য জানান, তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সম্প্রসারণে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে ‘এআই সিটি’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। 

পাশাপাশি, ক্রীড়াকে সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা পর্যায়ে ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ প্রতিষ্ঠা এবং স্পোর্টস সায়েন্সের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র সৃষ্টিরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে ‘জুলাই ২০২৪ : গণঅভ্যুত্থান, সংগ্রাম ও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন’ শীর্ষক পৃথক এক সেমিনারে অধ্যাপক ড. মামুন বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কেবল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছিল না, বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষায় সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নিয়েছিল। মুক্তচিন্তার বিকাশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং ফ্যাসিবাদের অবসানের প্রত্যাশাই ছিল এই আন্দোলনের মূল প্রেরণা।

যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান এবং জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা ও শিক্ষার্থী মো. ইসমাইল হোসেন।

ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. রাফিউল হাসানের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরে, ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।