বাসস
  ০২ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৪৫
আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৫৫

সেবা নিতে এসে কেউ যেন বৈষম্যের শিকার না হন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ‘২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি : বাসস

রাজশাহী, ২ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নবীন এএসপি প্রবেশনারদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আইনের চোখে রাজপথের কর্মী থেকে প্রান্তিক কৃষকÑসকলেই সমান। সেবা নিতে এসে কেউ যেন কোনো প্রকার বৈষম্যের শিকার না হন, সে বিষয়ে সদা সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, চেইন অব কমান্ড, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও সমন্বিত নেতৃত্বই বাহিনীর মূল শক্তি।

মন্ত্রী আজ রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ‘২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ কোনো বিশেষ দলের বা গোষ্ঠীর হয়ে কাজ করবে না, বরং পুলিশকে হতে হবে জনগণের অকৃত্রিম বন্ধু ও নিরাপত্তার প্রতীক।

তিনি বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ দলীয় প্রভাবমুক্ত করে একটি আধুনিক, দক্ষ ও মানবিক সেবামুখী সংস্থায় রূপান্তর করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে চরম দলীয়করণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পুলিশ বাহিনীর মনোবল পুনর্গঠনে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

মন্ত্রী বলেন, বাহিনীর পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনতে সততা ও শৃঙ্খলার ভিত্তিতে পুরস্কার ও তিরস্কারের নীতি চালু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের জন্য যেমন পুরস্কৃত করা হচ্ছে, তেমনি অপরাধ বা শৃঙ্খলাভঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী নবীন কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আজকের এই আনন্দঘন মুহূর্তটি তাঁদের জীবনে অনেক আগেই আসার কথা ছিল। বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর যাবত যে সীমাহীন বঞ্চনা ও অমানবিক যন্ত্রণা তাঁরা সহ্য করেছেন, তা অত্যন্ত পীড়াদায়ক। স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর ন্যায্য অধিকার ও পদমর্যাদা ফিরে পাওয়ায় তিনি সকল কর্মকর্তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

নবীন এএসপি প্রবেশনারদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, আপনারা দেশের এক ঐতিহাসিক রূপান্তরকালে পেশাগত জীবনে পদার্পণ করছেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ তদন্তে নবীন কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ কারিগরি জ্ঞান অর্জন করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে, তাই সকল পুলিশ সদস্যদের সততার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ প্রথম পর্যায়ের সদস্যরা তাঁদের দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বিভিন্ন পেশায় অর্জিত জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে জনপ্রত্যাশা ও জনআকাক্সক্ষা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে নবীন এএসপি প্রবেশনারদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল জি এম আজিজুর রহমান, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ। এছাড়া অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং দেশি-বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, এএসপি প্রবেশনারদের অভিভাবকবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন করেন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। তিনি শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্য হতে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

উল্লেখ্য, এবারের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাকটিভিটিজ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া, বেস্ট শ্যুটার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার এ বি এম মামুন ও বেস্ট অ্যাকাডেমিক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন আবু নুমান মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম। বেস্ট প্রবেশনার হয়েছেন সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া। ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ প্রথম পর্যায়ের ৫৭ জন ও ২৮তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ১ জনসহ মোট ৫৮ জন প্রশিক্ষণার্থী আজকের এই প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন।

পরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আশুলিয়া ও মতিঝিলে বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), ডিএমপি'র বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল বস্তুগুলো নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করেছে।

সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরো জানান, বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি জানান, তুলনামূলক বিচারে দেশে অপরাধ প্রবণতা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের হার বর্তমানে অত্যন্ত কম। তথাপি সরকার সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।