বাসস
  ০৮ জুলাই ২০২৬, ১৯:৪০

তিস্তায় পানি বৃদ্ধি, কুড়িগ্রামে চরাঞ্চল প্লাবিত

ছবি : বাসস

কুড়িগ্রাম, ৮ জুলাই, ২০২৬, (বাসস): অবিরাম বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামের তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলাসহ প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে।

নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার নিচু চরাঞ্চল ও দ্বীপচরগুলো প্লাবিত হতে শুরু করেছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) যৌথভাবে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আজ বুধবার সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ২৮ দশমিক ৮২ মিটার, যা মাত্র ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে সকাল ৯টায় ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ২৮ দশমিক ৯৬ মিটারে পৌঁছায়। বর্তমানে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

একই সময়ে দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানি ১ সেন্টিমিটার এবং ধরলা নদীর তালুকসিমুলবাড়ী পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি ১ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে এবং ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিগত ২৪ ঘণ্টায় চিলমারী উপজেলায় ১৫০ মিলিমিটার, পাটেশ্বরী এলাকায় ৫৪ মিলিমিটার এবং কুড়িগ্রাম সদরে ৫২ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বাসসকে জানান, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিস্তাসহ কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা স্পর্শ করতে পারে। এ লক্ষ্যে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তা অববাহিকার ঘড়িয়ালডাঙ্গা চরের নিচু এলাকার ফসলি জমি ও কিছু বসতভিটায় পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

জেলা চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু ১৬ নদ-নদী বেষ্টিত এই জেলার চরাঞ্চলের মানুষের বন্যা ও নদীভাঙন জনিত মানবিক সংকট নিরসনে স্থায়ী ভাঙনরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ বাসসকে জানান, দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার উপজেলাগুলোতে ইতোমধ্যে ২৮৫ মেট্রিক টন জিআর চাল, ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত রয়েছে এবং প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।