বাসস
  ১৮ জুন ২০২৬, ১৮:০৫

২০ জুন প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপের ফাইনাল : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ১৮ জুন, ২০২৬ (বাসস) : আগামী শনিবার (২০ জুন) প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, আগামী ২০ জুন জাতীয় স্টেডিয়ামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর।

আজ সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে ববি হাজ্জাজ এ তথ্য জানান।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে কেবল পাঠ্যবইভিত্তিক না রেখে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, গণিত ও উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

তিনি বলেন, এই টুর্নামেন্ট শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি দেশের শিশু-কিশোরদের সুস্থ বিকাশ ও নেতৃত্বগুণ তৈরির একটি বড় উদ্যোগ।

প্রতিযোগিতায় এক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী, চার লাখের বেশি শিক্ষক এবং কোটি কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।

এত বড় পরিসরের এই আয়োজন জাতীয়ভাবে আরও বেশি প্রচার পাওয়া উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনের ব্যাপক প্রচার প্রয়োজন, যাতে দেশের প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের সাফল্য জনগণের সামনে আরও বেশি তুলে ধরা যায়।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, গণমাধ্যম এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরও জানান, গোল্ডকাপের চ্যাম্পিয়ন দলগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার সহযোগিতায় বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প আয়োজন অথবা বিজয়ী খেলোয়াড়দের বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার বিষয়ে কাজ করছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম অর্জন করেছেন।

ভবিষ্যতে ছেলে ও মেয়ে উভয় বিভাগের খেলোয়াড়দের বিশ্বমানের ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।

তিনি বলেন, শিক্ষা সংস্কারের বিষয়ে কিছু মহলে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে সরকার কেবল সংস্কৃতি বা খেলাধুলার ওপর জোর দিচ্ছে।

বাস্তবে সরকার ভাষা শিক্ষা, গণিত, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি এবং খেলাধুলা, সব ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের গণিতভীতি দূর করতে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পর্যায়ক্রমে ‘ম্যাথ ল্যাব’ স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

পাশাপাশি বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে আধুনিক বিজ্ঞানাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে মোবাইল ফোন ও ট্যাবনির্ভর জীবন থেকে বের করে সৃজনশীল ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

এ কারণেই সাংস্কৃতিক শিক্ষা, খেলাধুলা এবং সৃজনশীল কার্যক্রমকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ইতোমধ্যে বড় পরিসরে ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ আয়োজন করা হয়েছে।

পাশাপাশি সুশাসন ও নাগরিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে গভর্ন্যান্সভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতাও চালু করা হচ্ছে।

পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা-১৩ আসনের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমন একটি কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে বিস্তৃত করা হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে বিদ্যালয়ে প্রবেশ থেকে বের হওয়া পর্যন্ত আনন্দময় পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই সরকার ‘হ্যাপিনেস ক্লাসরুম’ ধারণা বাস্তবায়নে কাজ করছে।

শিক্ষাকে আনন্দদায়ক, অংশগ্রহণমূলক ও বাস্তবমুখী করার মাধ্যমে আগামী দিনের দক্ষ, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি করা সম্ভব হবে।