শিরোনাম

ময়মনসিংহ, ১১ জুন, ২০২৬, (বাসস): ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার বলেছেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দিয়েই আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে।
উদাহরণ হিসেবে চীনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার ব্যাপক বিস্তারের কারণেই দেশটি দ্রুত উন্নয়ন করেছে। বাংলাদেশকেও এগিয়ে নিতে বিজ্ঞান শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার মিলনায়তনে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। তাই শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণ করে সেই লক্ষ্য অর্জনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চর্চার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে পারলে দেশও উন্নতির পথে আরও এগিয়ে যাবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, বিজ্ঞান মেলার জন্য শুধু প্রকল্প তৈরি করলেই হবে না, অবসর সময়েও নতুন নতুন উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে হবে। বিদ্যালয়ের পাঠদানের পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার মাধ্যমে নিজেদের সৃজনশীলতা বিকাশ করতে হবে।
এ সময় তিনি শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিজ্ঞান ক্লাব ও বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রম যেন শুধু মেলার সময় সীমাবদ্ধ না থাকে। সারা বছর নিয়মিত বিজ্ঞান চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যত বেশি হাতে-কলমে বিজ্ঞান শিক্ষা গ্রহণ করবে, তত বেশি নতুন কিছু আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার জন কেনেডি জাম্বিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ড. মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস।
বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় আয়োজিত ও জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘উদ্ভাবন নির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিভাগীয় পর্যায়ে ৪৭তম এ বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভাগীয় পর্যায়ে বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও উদ্ভাবকদের মধ্য থেকে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয় এবং তাদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।
এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিজ্ঞান অনুরাগী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।