শিরোনাম

সাতক্ষীরা, ১৯ মে, ২০২৬, (বাসস): জেলার শ্যামনগরে কালবৈশাখী ঝড়ে তালগাছ ভেঙে পড়ে শারমিন নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। একই সময় ঝড়ে উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯নং সোরা এলাকায় কয়েকটি পরিবারের ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহত শারমিন (৯) উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামের আব্দুর রউফের মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিকেলে বাড়ির পাশে খেলছিল শারমিন। হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে একটি তালগাছ ভেঙে তার গায়ের ওপর পড়ে। এতে সে গুরুতর আহত হয়।
এসময় পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান বাসসকে বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শিশু শারমিনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯নং সোরা এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে কয়েকটি পরিবারের ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিকেলে হঠাৎ শুরু হওয়া ঝড়ের তাণ্ডবে মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝড়ের তীব্রতায় আশরাফুল নামের এক ব্যক্তির বসতঘরের ছয় থেকে সাতটি টিন উড়ে যায় ও ভেঙে পড়ে।
একই এলাকায় মোকছেদ গাজীর ঘরের দুই পাটের মধ্যে এক পাটের চাল সম্পূর্ণ উড়ে গেছে। এতে পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত আশরাফুল বলেন, ঝড় শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘরের টিন উড়ে যায়। এখন পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে থাকতে হবে। নিজের টাকায় ঘর মেরামত করার সামর্থ্য নেই।
মোকছেদ গাজী বলেন, ঝড়ে ঘরের চাল ভেঙে গেছে। বৃষ্টি হলে থাকার মতো অবস্থা নেই। দ্রুত সহায়তা দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে বিত্তবান ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও এনজিও সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে জরুরি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে।
গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে তার ইউনিয়নে তিনটি পরিবারের তিনটি ঘরবাড়ি কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।