শিরোনাম

শাহজাহান নবীন
ঝিনাইদহ, ১২ মে ২০২৬ (বাসস): টানা বৃষ্টিতে ডুবে আছে পাকা ধানের ক্ষেত। ধান রক্ষা করতে ধানের শীষ কেটে নিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক। ফলে জেলায় গোখাদ্য সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের ফলে ঝিনাইদহ জেলার নিচু ধানি জমিতে পানি জমে গেছে। ফলে কৃষকরা পাকা ধানের শীষ কেটে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। কোথাও কোথাও বৃষ্টিতে ভিজে মাঠেই অঙ্কুরিত হয়ে যাচ্ছে কেটে রাখা ধান। এতে ধানের মান যেমন কমছে, তেমনি লোকসানের চিন্তা বাড়ছে কৃষকের। সেই সাথে ধানের শীষ কেটে নেয়ার ফলে ধানের খড় পড়ে থাকছে মাঠেই। এতে সামনের দিনে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে খড়ের সংকট হবে বলে আশঙ্কা করছেন জেলার কৃষকরা।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ জুড়ে পাকা ধানের সমাহার। চলতি বোরো মৌসুমে ধানের ফলনও ভালো হয়েছে। তবে বৃষ্টির বিড়ম্বনায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক। সদর উপজেলার হামুদর বিল, রাজারামের বিল, ভবানীপুর-রামনগর মাঠ, মহারাজপুর মাঠ, বৈডাঙ্গা, রাঙ্গিয়ারপোতা মাঠের নিচু জমিতে জমে আছে বৃষ্টির পানি।
এছাড়া জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার রায়গ্রাম, জামাল, কোলা, নিত্যানন্দপুর, আগমুন্দিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠের চিত্র প্রায় একই। মহেশপুর ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার অধিকাংশ ধানি ফসলের মাঠে নিচু জমিতে জমে গেছে বৃষ্টির পানি। ভিজে গেছে কেটে রাখা ধান। অনেকের ধান মাঠে অঙ্কুরিত হয়ে গেছে। ফলে ধানের উপযুক্ত দামও পাচ্ছেন না কৃষক।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সকালে আবহাওয়া ভালো দেখে তারা ধান কেটে ফেলেছেন। কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই বিকাল ও সন্ধ্যায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গত ৪ দিন টানা বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে জেলা সদরের পশ্চিমাঞ্চল, কালীগঞ্জ, হরিণাকুণ্ডু ও মহেশপুরে বৃষ্টিপাত বেশি হয়েছে। ফলে এসব এলাকার কৃষকরা কেটে রাখা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বাসসকে বলেন, আকাশ ভালো দেখে সকালে ধান কাটলাম। বিকালে তুমুল বৃষ্টি। পরদিন সকালে মাঠে গিয়ে দেখি ধানের কল (অঙ্কুর) বেরিয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে ধানের আগা (শীষ) কেটে নিয়ে এসেছি। এতে খরচ হয়েছে দ্বিগুনেরও বেশি।
গো খামারী খানজাহান আলী ছোটন বাসসকে বলেন, ‘গ্রামের মানুষ এখন সবাই প্রায় বাড়িতে ছোট ছোট খামার করে গবাদিপশু পালন করে। কিন্তু এবছর বৃষ্টির কারণে মাঠে ধানের বিচালি (খড়) পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষকরা বাধ্য হয়ে ধানের শীষ কেটে নিয়ে আসছে। ধান বাঁচাতে হলে তো বিচালির চিন্তা তারা করতে পারছে না। ফলে আগামী মৌসুম পর্যন্ত জেলায় গোখাদ্য, বিশেষ করে বিচালির সংকট হতে পারে।’
কালীগঞ্জ উপজেলার বহেরগাছী গ্রামের কৃষক তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ধান নিয়ে কৃষকের কষ্টের শেষ নেই। শ্রমিক নেই, শ্রমিক পেলেও মজুরি বেশি। বাজারে ধান নিয়ে গেলে দাম পাওয়া যাচ্ছে না। ধান বিক্রি করে কৃষকের খরচের টাকা ওঠে। কিন্তু ধানের বিচালি পাওয়া গেলে ওই টাকাটাই লাভ থাকে। এবার আর বিচালি হবে বলে মনে হচ্ছে না।’
ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জামান বাসসকে বলেন, এবছর ধান কাটা শুরু হওয়ার পর থেকে মাঝে মাঝে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে কৃষকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। অনেকেই ধানের শীষ কেটে নিচ্ছেন। জেলার সব মাঠেই কম্বাইন্ড হারভেস্টার ধান কাটার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আবহাওয়ার তথ্য প্রদান, মাইকিংসহ নানা রকম কাজ চলমান রয়েছে। কৃষকরা এবার হয়তো বিচালি কম পাবে। তবে অনেক কৃষক এখনো খড় পাওয়ার জন্য ধান না কেটে আবহাওয়া ভালো হওয়ার অপেক্ষা করছেন।