
বগুড়া, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২(বাসস) : জেলার যমুনার সারিয়াকান্দির চরাঞ্চলের পাকা শুকনা মরিচ গাছ থেকে উঠানো ,শুকানো ও বাছাই উৎসবে মেতে উঠেছে শত-শত নারী শ্রমিকরা। মরিচ নিয়ে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে সারিয়াকান্দির চরাঞ্চলে। এছাড়া গাবতলী, সোনাতলা,শাজাহনপুর ও ধুনটের মরিচের বাপম্পার ফলন হয়েছে ।বগুড়ার মরিচের খ্যাতি দেশ জোড়া।
পলি পড়া চরে আবার মরিচেই ভাগ্য ফিরিয়ে দিয়েছে। বগুড়ার সারিয়াকান্দি ,গাবতলী, ধুনট, সোনাতলা উপজেলায় রবি মৌসুমে জেলায় পাইকারি প্রায় সাড়ে ৩শ’ ২৭ কোটি টাকার শুকনা মরিচ উৎপাদনের আশাবাদ কৃষি কর্মকর্তাদের। এবার রবি মৌসুমে ৭ হাজার ১০০ একর জমিতে মরিচ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। যা থেকে ১৮ হাজার ১৭৬ মেট্রিকটন শুকনা মরিচ পাওয়া যাবে এমনটি আশাবাদ জেলার কৃষি কর্মকর্তাদের। পাইকারি বাজারের রবি মৌসুমের শুকনা মরিচ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজ্ িআর খুচরা বাজারে সেই মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি। পাইকারি ১৮০ টাকা দরে এ মৌসুমে শুকনা মরিচ বিক্রি হলে এবছর জেলায় ৩০০ থেকে সাড়ে ৩শ ২৭ ’কোটি ১৬ লাখ টাকার শুকনা মরিচ উৎপাদন হবে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে এমটি জানলেন জেলা কৃষি বিভাগ।
জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচারক এনামুল হক জানান, শুধুমাত্র সারিয়াকান্দির যমুনার চরে ১৭০ কোটি টাকার উপরে শুকনা মরিচ কেনা-বেচা হবে। মরিচ সংগ্রহের জন্য দেশের নামকরা স্কায়ার, প্রাণ, বিডি ফুডসসহ অনেক ফুড প্রোসেসিং কোম্পানি মরিচ কেনার জন্য ভিড় করছে।তাদের নিবন্ধিত কৃষকের কাছ থেকে মান সম্পন্ন মরিচ উৎপাদনের জন্য সামগ্রিক সহায়তা দিয়ে থাকেন। মসলা প্রস্তুতকারি কোম্পানী গুলো চরাঞ্চলে মরিচ বাছাই ও শুকিয়ে সেগুলো মেশিনে গুড়ো করে প্যাকেট করে বাজারে বিপণন করছে।
সারিয়াকান্দিতে যমুনার চরের কৃষকের বন্যা নিয়ন্ত্রণবাধে , যমুনার গ্রয়েনে , বাড়ির উঠান, বাড়ির চালায় মরিচে লাল হয়ে গেছে। বর্ষার আগে মরিচ শুকাতে না পারলে মরিচের রঙ নষ্ট হয়ে যাবে। পাকা মরিচ শুকিয়ে এমন ভাবে সংরক্ষিত হয় যে যাতে বস্তা বা মাটির বড়-বড় পাত্রে এমনভাবে রাখা হয় যেন মরিচের গায়ে বাতাস স্পর্শ করতে না পারে। তবে এ মরিচ সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন ফুড প্রসেসিং কোম্পানির পক্ষ শুকনা মরিচ সংগ্রহের জন্য থেকে স্থায়ীভাবে সারিয়াকান্দিতে আড়ৎ তৈরি করেছে। সেখানে তারা এমনভাবে আড়ৎ তৈরি করেছে যাতে কোন মতে শুকনা মরিচে বাতাস লাগতে না পারে। এখন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে মরিচ শুকাতে বাছাই কাজে শত-শত নারী শ্রমিকদের কাজে লাগিয়েছে। ফুড প্রসেসিং কোম্পানিগুলো তাদের দিন মজুরী হিসেবে ২০০ টাকা দিয়ে থাকেন বলে জানান সারিযাকান্দি উপজলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল হালিম।
সাধারণত চরে মরিচ উৎপাদনে সামান্য কিছু টিএসপি, ডিএপি সারের প্রয়োজন পড়ে। বিঘা প্রতি মরিচ উৎপাদনে খরচ পড়ে ২০ হাজার টাকা। হাইব্রিট মরিচের বীজ এর দাম প্রতি কেজি ৭০ হাজার টাকা।
বিঘা প্রতি এবার মরিচের ফলন (শুকনা আকারের) হয়েছে ৮ থেকে ৯ মণ। এখন প্রতি মণ মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা পাইকারীতে। এতে কৃষকের বিঘা প্রতি লাভ থাকে ৪০ হাজার টাকা। মরিচের মান যত ভাল হবে ততোই লাভবান হবে কৃষক।
অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জানান, উৎপাদনের সিংহ ভাগ রবি মৌসুমের মরিচ বগুড়ার উৎপাদন হয়ে থাকে জেলার যমুনার সারিয়াকান্দি উপজেলার চর থেকে। রবি মৌসুমে জেলায় এবার ৭ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। এর বাইরে আলদ ভাবে কাঁচা মুরিচ বিক্রি হয়ে থাকে। কাঁচা মরিচ মানুষ রান্নার কাজে ব্যবহার করে। রবি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় পাকা মরিচ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে এমন তথ্য দিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরেরর সহকারী কৃষি অফিসার ফরিদ উদ্দিন। রবি মরিচের পর এখন বর্ষাকালীন খরিপ-২ মরিচের জন্য প্রস্তুতি নিবে কৃষক।