শিরোনাম

ঢাকা, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করার জন্য একটি পক্ষ প্রথম থেকেই অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে থেকেই বিএনপির বিরুদ্ধে অফুরন্ত মিথ্যাচার, প্রোপাগান্ডা, ফেইক ইনফরমেশন, সোশ্যাল মিডিয়াকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করে, অনৈতিকভাবে ব্যবহার করে জনগণের কাছ থেকে দলটিকে সরিয়ে দেওয়ার একটি অপচেষ্টা চলেছে। কিন্তু তারা সক্ষম হয়নি, সফল হয়নি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখনো আবার যে সমস্ত কার্টুনগুলো তারা তৈরি করছে, এতে খুব স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, ওই শক্তি- যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। আমরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছি। আমরা আশা করবো জনগণও এ অপরাজনীতি পরিহার করবে এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
আজ শনিবার দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
‘জামায়াতে ইসলামী কখনোই সুস্থ চিন্তা করেন না’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি আজকে এক পত্রিকায় একটি সংবাদ দেখলাম। যে সংবাদটি আমাকে অত্যন্ত আহত করেছে। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলছেন- বিএনপি ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে। আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং তিনি বা তার দল যে কখনোই সুস্থভাবে চিন্তা করেন না তা প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সমগ্র পৃথিবীর দেশগুলো থেকে যারা অবজারভার এসেছিল, বাংলাদেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো, পত্রপত্রিকা-মিডিয়া একবাক্যে স্বীকার করেছে যে, এই নির্বাচন ছিল এই কালের অর্থাৎ বাংলাদেশের জন্মের পর থেকে সবচাইতে নিরপেক্ষ, অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন। সেই সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়েই বিএনপি তার জনপ্রিয়তার মধ্য দিয়ে ২১৩ টি আসন লাভ করে সরকার গঠন করার সুযোগ পেয়েছে। সুতরাং জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এই বক্তব্য আমি-আমরা প্রত্যাখ্যান করছি না শুধু, নিন্দা জানাচ্ছি এবং ক্ষোভ প্রকাশ করছি।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে বিভিন্নভাবে বিএনপির বিভিন্ন কর্মকা-ের ওপর বিভিন্নভাবে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে ওই শক্তিটির (জামায়াতে ইসলামী) পক্ষ থেকেই একটি ধুম্রজাল সৃষ্টি করার, আবার একটি বিভেদ সৃষ্টি করার।
মহান মে দিবসে বিএনপির শ্রমিক সমাবেশের গুরুত্ব বেশি মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব এই সমাবেশ সর্বাত্মকভাবে সফল করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ১ মে দুপুর ২টায় এই সমাবেশ হবে। এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আমাদের দলের চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে বাংলাদেশের সবচাইতে জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সভাকে সফল করার জন্য আমরা দলের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে আমাদের আবেদন থাকবে যে, তারা দিবসটি যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করবেন, আমাদের জেলা এবং উপজেলা ইউনিটগুলোতে একইভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারাও সেইভাবে দিবসটি পালন করবেন। আমরা ঢাকাতে এই দিবসটিকে একটি উৎসবের দিন এবং একই সঙ্গে রাজনৈতিক শপথ গ্রহণ করবার দিন হিসেবে এটাকে নিতে চাই। যাতে করে আমরা ভবিষ্যতে আমাদের রাজনীতিকে আরো বেগবান করতে পারি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়কারী সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ দফতর সম্পাদক মনির হোসেন, তারিকুল ইসলাম তেনজিং, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সংসদ সদস্য এসএম জিলানি, যুব দলের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন, কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল রহমান টিপু, জাসাসের সভাপতি হেলাল খান, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রোকন, তাঁতী দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সদস্য সচিব মজিবুর রহমান, উলামা দলের সভাপতি কাজী সেলিম রেজা, সদস্য সদস্য আবুল হোসেন, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার, প্রচার সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম মনজু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।