বাসস
  ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০০

২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছে সরকার : মন্ত্রিপরিষদ সচিব

আজ বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে কেবিনেট ব্রিফিং করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি। ছবি: বাসস

ঢাকা, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ২০৩০ সালের মধ্যে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরশক্তি (সোলার পাওয়ার) ব্যবহার করে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

তিনি বলেন, ‘এজন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০২৫' এবং ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক প্রকল্পে বিনিয়োগ সহজীকরণ’ ও ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারের প্রস্তাব’ অনুমোদন বিষয়ে আলাপ হয়েছে।’

আজ বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি এ তথ্য জানান।

এর আগে, এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক শুরু হয়।

মন্ত্রিসভার বৈঠক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে সরকার জ্বালানি খাতের এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারি জমির পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও বড় পরিসরে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান নীতিমালাকে আরও কার্যকর ও বিনিয়োগবান্ধব করতে এটি রিভিউ করা হয়েছে, যাতে উদ্যোক্তারা সহজে বিনিয়োগ করে মুনাফা নিশ্চিত করতে পারেন। সরকারের অংশগ্রহণের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এজন্য একটি কমিটির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদন করে কাজ শুরু করবে। এ কমিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজন হলে আইন ও নীতিমালা চূড়ান্ত করে কাজ শুরু করবে।

সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি উইন্ড মিল (বায়ুশক্তি) এবং বায়োগ্যাস নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে ১০ হাজার মেগাওয়াটের মূল লক্ষ্যমাত্রা শুধু সৌরবিদ্যুতের জন্য নির্ধারিত।

বর্তমানে প্রচলিত সোলার সিস্টেমের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে একে আরও আধুনিক ও টেকসই করতে দেশীয় উৎপাদনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

ড. নাসিমুল গনি জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৭ নভেম্বরকে পূর্বের মতো ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দিনটিকে ‘ক-শ্রেণি’ দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিগত ১৬ বছর এই দিবসটি পালন করা হয়নি, যা এখন থেকে পূর্বের ন্যায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে এবং এ দিন সরকারি ছুটি থাকবে।

তিনি জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রতি বছরের ৬ জুলাইকে ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটি ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত একটি দিবস হিসেবে পালিত হবে। অর্থাৎ এদিন কোনো সরকারি ছুটি থাকবে না, তবে দিবসটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে উদযাপন করা হবে।

জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে জানিয়ে সচিব বলেন, সৌরবিদ্যুতের কস্টিং বর্তমানে ইউনিট প্রতি ৪ থেকে ৮ টাকার মধ্যে রাখার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।