বাসস
  ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৪৫

ঝিনাইদহে নববর্ষে ১৬৭৯ কৃষক পাবে ‘কৃষক কার্ড’

ছবি : বাসস

ঝিনাইদহ, ৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : বাংলা নববর্ষ ঝিনাইদহের ˆশলকুপা উপজেলার প্রায় এক হাজার ৬শ’ কৃষক পেতে যাচ্ছেন ‘কৃষক কার্ড’| নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার পাইলট প্রকল্পের আওতায় এই কার্ড বিতরণ করতে যাচ্ছে| এরইমধ্যে প্রান্তিক কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ ও তথ্য বাতায়ন সম্পন্ন করেছে কৃষি বিভাগ| কৃষক কার্ড বিতরণের খবরে ˆশলকুপার আবাইপুর ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে খুশির আমেজ বিরাজ করছে|

ˆশলকুপা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আবাইপুর ইউনিয়নের কৃপালপুর ব্লকের প্রায় ১ হাজার ৬৭৯ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করে উপজেলা কৃষি বিভাগ| এরমধ্যে ১৯৪ জন কৃষককে যাচাই-বাছাইয়ে শ্রেণি-ভিত্তিক মাঝারি ও বড় কৃষক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়| পরে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ও যাচাই-বাছাই শেষে ১৬৭৯ জন কৃষকের মধ্যে ১ হাজার ৪৮৫ জন কৃষককে ‘মাসিক ভাতা/প্রণোদনাভোগী’ কৃষক কার্ডধারী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে|

কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কার্ডধারী ‘ভাতা/প্রণোদনাভোগী’ কৃষকরা প্রতি মাসে ২ হাজার ৫শ’ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন| এছাড়া একই কার্ড ব্যবহার করে তারা ন্যায্যমূল্যে সার, কীটনাশক ও বীজ কিনতে পারবেন| অন্যদিকে, কৃষক কার্ডের আওতাধীন মাঝারি ও বড় মাপের কৃষকরা মাসিক ভাতা/প্রণোদনা পাবেন না| তবে তারা কার্ড ব্যবহার করে ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক ক্রয় করতে পারবেন|

এদিকে কৃষক কার্ড চালুর খবরে ˆশলকুপার উপকারভোগী কৃষকদের মাঝে খুশি আমেজ বইছে| পহেলা ˆবশাখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন| ˆশলকুপার আবাইপুর কৃপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতি এরই মধ্যে শুরু হয়েছে| আবাইপুরে কৃষক কার্ড উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান|
উপকারভোগী কৃষক আলম মোল্লা বাসস’কে বলেন, কৃষকের কথা আগে কোনো সরকার মাথায় রাখেনি| নতুন সরকার আমাদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করতে যাচ্ছে| বাড়ি বাড়ি এসে আমাদের কাগজপত্র ও ছবি নিয়ে গেছে| পহেলা ˆবশাখের দিন আমাদের কৃষক কার্ড দেবে| আমরা খুশি|

পেঁয়াজ চাষী মিথুন আলী বাসস’কে বলেন, সার, বীজ, সেচের পানির দাম বাড়ছে| কৃষক কার্ডে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা দেবে বলে শুনেছি| এই টাকা কৃষকরা পেলে কৃষক বাঁচবে| সরকারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ|
সামাদ আলী নামে আরেক কৃষক বলেন, সরকার সারাদেশে প্রথম ধাপে ১১টি উপজেলায় কৃষক কার্ড চালু করতে যাচ্ছে| প্রথম ধাপে আমরা আছি| এটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া| আমরা চাই, দেশের সকল কৃষক এই কার্ডের আওতায় আসুক|

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বাসস’কে বলেন, তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ সর্বোচ্চ সুষ্ঠতার ভিত্তিতে করা হয়েছে| পাইলট প্রকল্প হওয়ায় আমরা উপজেলার সকল কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনতে পারিনি| তবে, দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকার এই উপজেলার সকল কৃষককে এই কার্ডের আওতাভুক্ত করতে পারে| সারাদেশেই এই কৃষক কার্ড চালু করবে বর্তমান সরকার|

তিনি আরও বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রত্যেক কৃষক মাসিক আর্থিক ভাতা পাবেন| একই সাথে কৃষকরা পজ মেশিনে কার্ড ব্যবহার করে ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ, কীটনাশকসহ অন্যান্য সুবিধা পাবেন|