বাসস
  ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২০:০৬

দেশের ৩টি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনায় বিএনপির অবদান রয়েছে

সংসদ ভবন, ৭ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা বলেছেন, ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনায় অংশগ্রহণ করেছে; যার মধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানও রয়েছে। অন্যদিকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের এমন উল্লেখযোগ্য সম্পৃক্ততা নেই বলেও তারা উল্লেখ করেন।

তারা বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পাশাপাশি ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী বিপ্লবেও বিএনপি সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। তবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল জামায়াতের এ ধরনের অংশগ্রহণ ছিল না বলে দাবি করেন তারা।

জাতীয় সংসদে আজ হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা তাদের নিজ নিজ এলাকার অবকাঠামোগত প্রয়োজনীয়তা এবং বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বিষয়গুলোও তুলে ধরেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন গত ১২ মার্চ শুরু হয়; যেখানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর ভাষণ প্রদান করেন।

পরে কার্যউপদেষ্টা কমিটি এ ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য ৫০ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করে। চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু তা সমর্থন করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, দেশের এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ঘটনায় বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেই।

বিরোধীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিরোধী দল জুলাই আন্দোলনকে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব খাটো করার চেষ্টা করছে; যা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতাই জাতির সর্বোচ্চ অর্জন।

তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশকে উন্নত অবস্থানে নিয়ে যেতে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান।

চাঁদপুর-২ আসনের সরকারি দলের সদস্য এম জালালউদ্দিন বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে স্বীকার করেছেন যে, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার জনগণের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবহার করেছিল এবং গত ১৬ বছরে তিনটি প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছিল- এ জন্য তিনি রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান।

ঝালকাঠি-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, জনগণ বিএনপিকে ভালোবাসে এবং দেশে অনুষ্ঠিত প্রতিটি নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে।

তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের জন্য কাঁঠালিয়ায় একটি আধুনিক হাসপাতাল এবং রাজাপুরে ১০০ শয্যার একটি হাসপাতাল স্থাপনের দাবি জানান।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়; বরং একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই হয়েছিল।

তিনি দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে পাচার হওয়া প্রায় ২৩ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার ফিরিয়ে আনা এবং ব্যাংকিং খাতের প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান।

গাজীপুর-৪ আসনের বিরোধী দলের সদস্য সালাহউদ্দিন আইয়ুবী কাপাসিয়ায় গ্যাস সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এলাকাটিকে শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানান।

এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের এম কামরুজ্জামান, রাজশাহী-৬ আসনের আবু সাঈদ চাঁদ, রাজশাহী-৫ আসনের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ-১ আসনের এস এ জিন্নাহ কবির, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের এম আব্দুস সালাম, কুমিল্লা-৯ আসনের আবুল কালাম, সাতক্ষীরা-৪ আসনের গাজী নজরুল ইসলাম, সিলেট-৫ আসনের খেলাফত মজলিশের আবুল হাসান এবং চাঁদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য এম আব্দুল হান্নান আলোচনায় অংশ নেন।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারী সংসদ সদস্যরা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, আপসহীন নেত্রী ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।