শিরোনাম

ঢাকা, ৭ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)- এর নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী দায়িত্ব গ্রহণের পর চিকিৎসা শিক্ষা ও সেবায় প্রতিষ্ঠানটিকে রোল মডেলে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে শিক্ষকবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উপাচার্য তার বক্তব্যে উচ্চতর মেডিক্যাল শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলা এবং রোগীদের জন্য সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতারসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা বক্তব্য দেন।
মতবিনিময় শেষে উপাচার্য সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের বেইজমেন্টে স্থাপিত দেশের প্রথম অত্যাধুনিক এআই ভিত্তিক রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার পরিদর্শন করেন। এ সময় ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ শাকুর সেন্টারের কার্যক্রম তুলে ধরেন।
পরিদর্শনকালে উপাচার্য রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন; ব্যবহৃত প্রযুক্তি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসা কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি চিকিৎসক, নার্স ও ফিজিওথেরাপিস্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করে সেন্টারের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, এ ধরনের আধুনিক রোবটিক সেন্টার দেশের পুনর্বাসন চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং রোগীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জানা যায়, চীনের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত এ সেন্টারে প্রায় ২৫ কোটি টাকার উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। এখানে মোট ৬২টি যন্ত্রের মধ্যে ৫৭টি রোবট, যার মধ্যে ২২টি সম্পূর্ণ এআই-নির্ভর। এছাড়া রয়েছে ৫টি ফিজিক্যাল থেরাপি ট্রেনিং বেড।
রোবটগুলো ‘নিউরোপ্লাস্টিসিটি’ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে; যা স্ট্রোক, স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি ও স্নায়বিক জটিলতায় আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত পুনর্বাসনে কার্যকর। গেইট ট্রেনিং রোবটসহ বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে রোগীদের হাঁটা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রচলিত ফিজিওথেরাপির তুলনায় এসব রোবট দীর্ঘসময় ক্লান্তিহীনভাবে থেরাপি দিতে সক্ষম; যা রোগীর দ্রুত সুস্থতায় সহায়ক হবে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক এ কেন্দ্রটি দেশের চিকিৎসাখাতে একটি যুগান্তকারী সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায়ও অংশ নেন উপাচার্য। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।
এর আগে ৬ এপ্রিল প্রথম কর্মদিবসে উপাচার্যকে বিএমইউ ড্যাব নেতৃবৃন্দ ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, আইসিইউ সুবিধা বৃদ্ধি এবং সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়।
উপাচার্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় বিএমইউকে আন্তর্জাতিক মানের একটি প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।