শিরোনাম

ঢাকা, ৭ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি শতভাগ নির্মূল করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, দুর্নীতি করতেই স্বাস্থ্যের কেনাকাটায় মারপ্যাঁচ রাখা হয়। টেন্ডার প্রক্রিয়া অনেক সময় এমনভাবে করা হয়, যাতে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধা পায়। যে কোন মূল্যে এই খাতের দুর্নীতি শতভাগ নির্মূল করা হবে।
বিশ্বস্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নৈতিকতার উন্নতি না হলে এই খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। টেন্ডার প্রক্রিয়া অনেক সময় এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধা পায়। টিকা কেনার ক্ষেত্রেও বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ শর্ত আরোপ করা হয়, যা সংরক্ষণ ও ব্যবহারে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।
হামের প্রকোপ কিছুটা কমেছে দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের যৌথ চেষ্টায় ৫ এপ্রিল থেকে দেশের হামের বেশি সংক্রামক ১৮টি জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেদিনই ৭৬ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর রহমতে এর প্রকোপ কিছুটা কমে আসছে। প্রথম দিনেই টিকাদান কর্মসূচিতে আমরা ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত সফল হয়েছি। একইসঙ্গে টিকা কার্যক্রমও চলছে।
ইউনিসেফের মাধ্যমে হামের টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিগত সরকার টিকা সংগ্রহে সংকট সৃষ্টি করে গেছে। যার কারণে হাম মহামারি আকারে দেখা দিয়েছে। এখনও হাম আছে, তবে প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল ও বিচক্ষণ নেতৃত্বে আমরা বিষয়টিকে স্ট্রিমলাইন করতে পেরেছি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক কোম্পানির ওষুধে উপাদানের ঘাটতি আছে। তারপরও তারা বাজারে রয়েছে। অন্যদিকে অনেক ভালো কোম্পানিকে নানা কারণে আটকে রাখা হয়। এই খাতের টেকসই উন্নয়নে স্বাস্থ্যকর্মী, ওষুধ কোম্পানি ও প্রশাসনের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
করোনা মহামারির সময় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এই সম্মানিত গোষ্ঠী জাতিকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং এখনও তারা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে চিকিৎসক ও নার্সরা যথেষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। তবে সামগ্রিকভাবে দুর্নীতি বন্ধ না করলে এই প্রচেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য বয়ে আনবে না। তাই স্বাস্থ্যখাতের সব স্তরে দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
ওয়ান হেলথ শুধু একটি স্বাস্থ্য ধারণা নয়, এটি একটি বহুমাত্রিক বৈজ্ঞানিক ও নীতিগত কৌশল উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, ওয়ান হেলথ বাস্তবায়নে বিভিন্ন খাতের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশ এই তিনটির সমন্বিত উন্নয়নেই টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এ জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা, তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।