শিরোনাম

রাজশাহী, ৫ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : রাজশাহী বিভাগের পাঁচটি জেলায় তিন সপ্তাহব্যাপী হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, পাবনা ও নাটোরের ১০টি উপজেলায় এ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। এসব জেলার হাম প্রাদুর্ভাব-প্রবণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহীতে আজ সকাল ৯টায় গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।
তিনি জানান, এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় মোট ৫৬ হাজার ৬০০ শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রথম দিনে ২৭টি কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে ৫ হাজার ৬০০ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি আরও জানান, কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচি এগিয়ে চলছে। অভিভাবকরা স্বেচ্ছায় তাদের সন্তানদের কেন্দ্রে নিয়ে আসছেন এবং টিকা নিতে জনগণের মধ্যে কোনো অনীহা দেখা যায়নি।
অনুষ্ঠানে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এস আই এম রাজিউল করিম জানান, ৫ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হবে। প্রথম দিনে গোদাগাড়ী উপজেলায় ৫ হাজার ৬৫০ জন এবং পৌরসভায় ৬২৮ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, যেসব শিশু অন্তত ২৮ দিন আগে টিকা নিয়েছে, তাদেরও এই কর্মসূচির আওতায় পুনরায় টিকা দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে জেলার প্রায় ৪০ হাজার শিশুর মধ্যে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আগামী তিন সপ্তাহ প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেন, এ বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শিশুদের হাম থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের নির্ধারিত কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে টিকা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপুপরিচালক মো. জাকিউল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সবুর আলী, গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুস সাদাত রত্ন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম।