শিরোনাম

নেত্রকোণা, ৫ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : জেলার আটপাড়া উপজেলায় হাম ও রুবেলা নিয়ন্ত্রণে আজ থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে আগামী ২১ দিন এই বিশেষ কার্যক্রম চলবে। আজ রোববার সকালে জেলা সিভিল সার্জন ডা. গোলাম মাওলা এই টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
সিভিল সার্জন ডা. গোলাম মাওলা বলেন, ‘হাম হলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে এটি নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য জটিলতা তৈরি করতে পারে, যা অনেক সময় প্রাণঘাতী হয়। তবে হাম ও রুবেলা টিকা অত্যন্ত কার্যকর। এই টিকা দিলে ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।’
তিনি জানান, ‘আমরা প্রতিটি ব্লকে বা স্পটে গিয়ে শিশুদের কাভারেজ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। যেসব শিশু আগে একটি ডোজ পেয়েছে তাদের দ্বিতীয় ডোজ এবং যারা পায়নি তাদের প্রথম ডোজ দেওয়া হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আটপাড়ার সকল শিশুকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ পর্যন্ত ৯৭ জন শিশু হামে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৭৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং ল্যাব পরীক্ষায় ১০ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আটপাড়া উপজেলাকে বর্তমানে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনটি ইউনিয়নের ২১টি কেন্দ্রে একযোগে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। জেলায় মোট ১৬৮টি আউটরিচ সেন্টারের মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এই বিশেষ কার্যক্রমে উপজেলার প্রায় ১৮ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্ম সনদ সাথে নিয়ে কেন্দ্রে আসতে হবে। শিশুদের জন্ম নিবন্ধন না করা হলে মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সাথে নিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, আটপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. উত্তম কুমার, মদন উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. নুরুল হুদা এবং আটপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মো. মাছুম চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
স্বাস্থ্য বিভাগের এই জরুরি পদক্ষেপে স্থানীয় অভিভাবকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আজ সকাল থেকেই টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের নিয়ে মায়েদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া স্থানীয় মসজিদগুলোতে মাইকিং করে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।