বাসস
  ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৫৩

খুলনায় হামে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় স্বাস্থ্য বিভাগের বিশেষ উদ্যোগ

খুলনায় হামে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ছবি : বাসস

খুলনা, ৫ এপ্রিল ২০২৬ (বাসস) : কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা হামের হটস্পটে পরিণত হয়েছে। বিভাগের হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। 

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান সৈয়দা রুখশানা পারভীন বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ।

একজন আক্রান্ত শিশু হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সহজেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু নিয়মিত টিকা পায়নি বা অপুষ্টিতে ভুগছে, তাদের ঝুঁকি বেশি।

তিনি বলেন, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে হামসহ সংক্রামক রোগে আক্রান্তদের ভর্তি করা হয় না। কিন্তু এই রোগের গুরুত্ব বিবেচনায় ও খুলনায় যে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালটি রয়েছে তার সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আমাদের এখানে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি আইসোলেশন সেন্টার তৈরি করে শিশুদের রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি শিশু রোগীর সংখ্যা। বিভাগে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে দুইজনের। যার মধ্যে ২ জনই কুষ্টিয়ার। গতকাল শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩০০ এর কাছাকাছি। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৯৯জন শিশু। 

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যমতে, প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়া থেকে গতকাল শনিবার বিকেল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় ২৯৯ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা কুষ্টিয়া জেলার। কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বোচ্চ ১০৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আর মারা গেছে দুইজন। এছাড়া খুলনায় ৫৮ শিশু, যশোরে ৫৯, বাগেরহাটে ৬, চুয়াডাঙ্গায় ৬, ঝিনাইদহে ১৮, মাগুরায় ১৭, মেহেরপুরে ৪, নড়াইলে ১২ এবং সাতক্ষীরায় ১৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদিকে, শনিবার হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৫৬ শিশু। এরমধ্যে সাতক্ষীরায় ১৩, কুষ্টিয়ায় ১২, খুলনায় ৬, যশোরে ৫, বাগেরহাটে ২, চুয়াডাঙ্গায় ৩, ঝিনাইদহে ৩, মাগুরায় ৫, মেহেরপুরে ২ ও নড়াইলে ৫ জনকে নতুন করে ভর্তি হয়েছে।