বাসস
  ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:১৫

স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা : চিফ হুইপ

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম আজ শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি: বাসস

ঢাকা, ৩ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ হলো সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন করা।

আজ শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ হুইপ বলেন, একজন রিকশাচালকের রিকশা চালানোর অধিকার, একজন কৃষকের চাষাবাদের অধিকার এবং তাদের ঘাম ও শ্রমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করাই স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের রুটি-রুজির অধিকার ফিরিয়ে দেওয়াই স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পর দেশের মানুষ এখন স্বাধীনতার সুফল পেতে শুরু করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সুশাসনের একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের চিত্র তুলে ধরে মো. নূরুল ইসলাম বলেন, সে সময় দেশে দুর্ভিক্ষ, অনাহার এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতির মতো পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দায়িত্ব নিয়ে খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে খাদ্য সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং বাংলাদেশ খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়।

‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এর বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে আইনি জটিলতা না থাকে। 

বিরোধী দল প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, ‘তারা বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছে—কখনো স্থানীয় সরকার নির্বাচন, কখনো সংস্কার, আবার কখনো সংবিধান পরিবর্তনের দাবি তুলছে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে তারা পিআর পদ্ধতি দাবি করলেও বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক দেশেই এ ব্যবস্থা নেই। আমরা তখন সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছি, কোনো অযৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নের অজুহাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না।’

শেখ মুজিবুর রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতাকে অরক্ষিত রেখে তিনি আত্মসমর্পণ করেছিলেন। আবার তারই দল আওয়ামী লীগ দেশ থেকে ২৭ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কে নুরুল ইসলাম বলেন, তিনি একজন সাশ্রয়ী মানুষ, যিনি নিজের অফিসে সেন্ট্রাল এসি চালান না এবং রাত ৩টায় ফোন করলেও তাঁকে পাওয়া যায়। তারেক রহমান কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের প্রচলন করেছেন এবং প্রস্তাব রেখেছেন যে, দুবারের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন, যার ধারাবাহিকতায় বর্তমানে দেশে বহু গণমাধ্যম কাজ করছে। একইভাবে বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে দেশের উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমানের উন্নতি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া প্রমুখ বক্তব্য দেন। 

অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।