বাসস
  ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৪৬

সুনামগঞ্জে হাওর পরিদর্শনে কামরুজ্জামান কামরুল এমপি

সুনামগঞ্জে হাওর পরিদর্শনে কামরুজ্জামান কামরুল এমপি। ছবি: বাসস

সুনামগঞ্জ, ৩ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার হালির হাওরের মাছিমপুর ও ইসহাকপুর স্লুইস গেইট পরিদর্শন করেছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের (জামালগঞ্জ-মধ্যনগর-ধর্মপাশা-তাহিরপুর) সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। হাওর পরিদর্শনকালে তিনি পানি সেচের মাধ্যমে নিষ্কাশনের জন্য ১ লাখ টাকা সহায়তা প্রদান করেন।

এসময় স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি পানি অপসারণের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। এছাড়াও হাওর এলাকার কৃষকদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

উল্লেখ্য, চলতি বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জের ছোট-বড় ৯৫টি হাওরের দুই লাখ ২৩ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন। যার বাজারমূল্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা। তবে সেই ধান ঘরে তুলতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাওরের প্রায় ১০ লাখ কৃষক। 

জেলার দেখার হাওর, কানলার হাওর, করচার হাওর, শান্তিগঞ্জের খাই হাওর, পাখিমারা হাওর, শাল্লার ছায়ার হাওর, জামালগঞ্জের হালির হাওর, পাগনার হাওর, তাহিরপুরের শনির হাওর, মাটিয়ান হাওরসহ জেলার বিভিন্ন হাওরের বেশিরভাগ কৃষকের কাঁচা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। 

পাখিমারা হাওরের কৃষক ছাত্তার মিয়া বলেন, ‘অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের কারণে হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। হাওরের পানি নিষ্কাশনের অভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে হাওরের ফসল নষ্ট হচ্ছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘অন্য বছর থেকে এবছর কয়েকদিনেই ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি সিলেটে বৃষ্টি হচ্ছে, নদীর পানিও বাড়ছে। এরইমধ্যে হাওরে যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, তাতে কৃষকদের ১ হাজার ১০০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।’ 

তিনি বলেন, ‘আমাদের উপজেলা থেকে যে তথ্য দেয়, আমরা সে তথ্য অনুযায়ী কাজ করি। তবে কোনোও কৃষকের ধান ক্ষতি হলে আমাদের জানাতে হবে।’

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বাসসকে বলেন, হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে। 

জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বাসসকে বলেন, হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি সভা করা হয়েছে। কৃষকের ধান রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।