বাসস
  ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৮:২৫

খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিলো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত শনিবার যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার গৌরীঘোনা ইউনিয়নে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ছবি: বাসস

ঢাকা, ২৮ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে।

আজ (শনিবার) যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার গৌরীঘোনা ইউনিয়নের বুরুলি স্কুল এ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুরুলি খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে খাদ্য সমস্যার কথা, অভাবের কথা, কৃষকের দুরবস্থার কথা আপনি ও আমি চিন্তা করতে পারছি না।

এ সময় তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে বছরে এক বার ফসল ফলতো। কৃষকের ঘরে অভাব-অনটন লেগেই থাকতো। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এক দিকে খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে সারা বছর সেচের পানি ধরে রাখার বন্দোবস্ত করলেন, অপরদিকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের মাধ্যমে গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ দিলেন।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগের ফলে জমিতে প্রয়োজনীয় সেচের বন্দোবস্ত করা সম্ভব হয় এবং এর ফলশ্রুতিতে যে জমিতে একবার ফসল ফলতো, সেই জমিতে দুই থেকে তিন বার ফসল ফলতে শুরু করে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে কৃষকদের পাঁচ হাজার টাকা সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করে দিয়েছেন। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ভবদহে জলাবদ্ধতায় নিমজ্জ্বিত মানুষের দুঃখ-কষ্ট নিরসনে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন,  আমরা এসেছি আশার আলো জ্বালাতে। আমরা এই বার্তা দিতে এসেছি যে তারেক রহমানের সরকার এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-কষ্টের সঙ্গে সমব্যথী। আমরা এ অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-কষ্টের স্থায়ী সমাধানের সূত্র খুঁজে বের করতে চাই। 

তিনি বলেন, বিগত সরকারগুলো উন্নয়নের নাম করে নিজেদের পকেট ভারী করেছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন,  ভবদহ এলাকার মূল নিষ্কাশন নদীসহ টেকা নদী, শ্রী, হরিয়ন, খরিয়ান, আপারভাদ্রা বিভিন্ন খাল (৮১.০৫ কিলোমিটার) পুনঃখনন কাজ চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে ২১টি খালের খনন কাজ চলমান রয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, পানি নিষ্কাশনে অবকাঠামোর ডিপ মেরামত বা প্রতিস্থাপন করে অবকাঠামো সচল করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আগামী বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ভবদহে ২১টি রেগুলেটার ও ১৭টি কপাট খুলে পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, যশোর জেলা বিএনপি’র সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক খান সাবু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন খান, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. আবুল হোসেন আজাদ, জলাবদ্ধতা নিরসণের প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মামুনুর রশীদ, কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. জুলমত আলী ও সাংবাদিক এম এ হালিম বক্তৃতা করেন। 

বুরুলি খালের এই পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী। 

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন ও যশোর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. জাহিদ হাসান টুকুসহ স্থানীয় জনধারণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সাড়ে নয় কিলোমিটার খাল খননে ব্যয় হবে এক কোটি ৩৪ লাখ টাকা। 

২০২৬ সালের জুন মাসে কাজটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।