বাসস
  ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৭:১১
আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৭:২৪

ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতির মেলা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত : ত্রাণমন্ত্রী

ছবি : বাসস

লালমনিরহাট, ২৭ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, লালমনিরহাটের ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতি এলাকায় আয়োজিত মেলা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় জেলার সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের সিন্দুরমতি দিঘির পাড়ে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতি মেলা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, সিন্দুরমতিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি পারস্পরিক সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও ভালোবাসার দৃঢ় বন্ধনের প্রতিফলন। এই সম্প্রীতির চেতনাকে ধারণ করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কিছু অপশক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

দুলু বলেন, অতীতে দীর্ঘ সময়েও সিন্দুরমতি এলাকায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান সরকার এই তীর্থস্থানকে ঘিরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদার এবং দর্শনার্থীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, সিন্দুরমতির সরকারি জমি দখলমুক্ত করা হবে এবং মন্দির ও আশপাশের এলাকার সৌন্দর্যবর্ধনসহ ধর্মীয় পরিবেশ উন্নয়নে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সব ভেদাভেদ ভুলে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায়ই দেশ আরও এগিয়ে যাবে।’

প্রতি বছর চৈত্র মাসের নবম তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সিন্দুরমতি দিঘিতে পুণ্যস্নান করেন। সেই প্রথা অনুসারে এ বছরও সেখানে বিশাল মেলার আয়োজন করা হয়েছে। 

লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে, কুড়িগ্রামের রাজাহাট উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার এই দিঘিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী মেলায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লক্ষাধিক মানুষের সমাগমে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

সভায় লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এইচ এম রকিব হায়দার, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক ও সহ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম ফারুক সিদ্দিকীসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।