বাসস
  ১৫ মার্চ ২০২৬, ১৯:৪৪

পবিত্র রমজানে অধিকাংশ খাদ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ১৫ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : পবিত্র রমজান শুরু হওয়ার পর থেকে দেশীয় উৎপাদিত খাদ্যপণ্যসহ অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম এপর্যন্ত মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় কিছু আমদানি করা পণ্যের দাম বেড়েছে।

ভোক্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত তিন সপ্তাহ ধরে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে নিয়মিত ব্যবহৃত চাল, আটা, ডাল ও মসলা স্থিতিশীল দামে বিক্রি হচ্ছে।

তবে তারা বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে চিনিগুঁড়া পোলাও চাল, ভোজ্যতেল, মুরগি এবং কিছু ধরনের সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন সমস্যাই এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ।

তারা জানান, মিনিকেট, নাজিরশাইল, পাইজাম ও বিআর-২৮সহ সব ধরনের চালের দাম গত দুই মাস ধরে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ায় চিনিগুঁড়া পোলাও চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বর্তমানে প্রতি কেজি সরু চালের খুচরা মূল্য ৭০ থেকে ৮৫ টাকা, মাঝারি চাল ৫৫ থেকে ৬৮ টাকা এবং মোটা চাল ৪৮ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মিরপুর-১ সরকারি চাল আড়তের নিউ শাহ আলী রাইস এজেন্সি-এর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘গত দুই মাস ধরে সব ধরনের চালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। কারণ বোরো মৌসুমের আগে প্রচুর আমদানি এবং মিল মালিকদের সরবরাহের ফলে বাজারে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।’

২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত সরকার নতুন অনুমতির মাধ্যমে ৬ লাখ টনের বেশি চাল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে ভারত ও পাকিস্তান থেকে ৫০ হাজার টন, ২ লাখ টনসহ বিভিন্ন চালান আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে মজুত বাড়ানো এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

তবে চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে সৃষ্ট পরিবহন সমস্যায় গত এক সপ্তাহে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে।

এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘নওগাঁ থেকে ঢাকায় ২৮০ থেকে ৩০০ বস্তা চালের একটি চালান আনতে এখন পরিবহন খরচ লাগছে প্রায় ২২ হাজার টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৪ হাজার টাকা।’

অন্যদিকে, ঈদের আগে প্রতি ৫০ কেজির পোলাও চালের বস্তার দাম ৬,৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ৭,২০০ টাকায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন মিরপুর সেকশন-১-এর সততা রাইস এজেন্সির ব্যবস্থাপক স্বপন।

মোহাম্মদপুর সরকারি কৃষি মার্কেটের কেআর রাইস এজেন্সির পাইকারি ব্যবসায়ী মোর্শেদ আহমেদ বলেন, একদল চাল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ‘সিন্ডিকেট’-এর কারণেই পোলাও চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সভাপতি এএইচএম শফিকুজ্জামান ব্যবসায়ীদের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, একাংশ ব্যবসায়ী পোলাও চালের বাজারে কারসাজি করে অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়াচ্ছেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের উচিত ব্যবসায়ীদের এই একচেটিয়া প্রভাবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, কারণ তারা ইরান যুদ্ধকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে পণ্যের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে।

ক্যাব সভাপতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাজার তদারকি জোরদার করার আহ্বান জানান, কারণ বর্তমানে সরকারি হস্তক্ষেপ কার্যত স্থগিত রয়েছে।

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র দৈনিক বাজারদর অনুযায়ী, প্রতি কেজি মসুর ডাল ৯০ থেকে ১০৫ টাকা, দেশি ডাল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা এবং মুগ ডাল ১২০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত এক মাস ধরে সব ধরনের ডালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

টিসিবির সূচকে দেখা গেছে, এক সপ্তাহে খোলা আটা ১.১৬ শতাংশ, প্যাকেট আটা ১.৭১ শতাংশ, রসুন ৯.৫২ শতাংশ এবং আদা ২.৭০ শতাংশ কমেছে। তবে সয়াবিন তেলের দাম ৪.৭১ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২২০ টাকায় পৌঁছেছে এবং সোনালি মুরগি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগে এই দাম ছিল যথাক্রমে ১৭০ ও ২৮০ টাকা।

বর্তমানে আলু কেজিপ্রতি ১৮ থেকে ২০ টাকা, পেঁয়াজ ৩৫ টাকা এবং রসুন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগে এই দাম ছিল যথাক্রমে ২০-২৫ টাকা, ৪০-৬০ টাকা এবং ৮০-১৪০ টাকা।