বাসস
  ১৫ মার্চ ২০২৬, ১৮:৪৫
আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২৬, ১৮:৪৮

রাজশাহীতে ঈদের কেনাকাটায় ব্র্যান্ডের শোরুমে ছুটছেন বিত্তবানরা

ছবি : বাসস

ওমর ফারুক

রাজশাহী, ১৫ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রেশমি নগরী রাজশাহীর বিপণিবিতানগুলোতে কেনাকাটার ধুম পড়েছে। সাধারণ বাজারগুলোর পাশাপাশি এবার আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে শহরের নামিদামি ব্র্যান্ডের শোরুমগুলো। 

উচ্চবিত্ত ও শৌখিন ক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে রাজশাহীর সাহেব বাজার, আরডিএ মার্কেট সংলগ্ন ব্র্যান্ড শোরুম এবং নিউ মার্কেট এলাকা।

রাজশাহীর অভিজাত শ্রেণির ক্রেতারা এবার গতানুগতিক মার্কেটের চেয়ে ব্র্যান্ডের শোরুমগুলোকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। আড়ং, ক্যাটস আই, রিচম্যান, ফড়িং, লোটো, এপেক্স এবং বাটা’র মতো শোরুমগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভিড় দেখা যাচ্ছে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজগুলোতেও ক্রেতাদের সমাগম চোখে পড়ার মতো।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে কুমারপাড়া ও আলুপট্টি পর্যন্ত বিস্তৃত শোরুমগুলোতে নতুন কালেকশনের ছড়াছড়ি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রিমিয়াম পাঞ্জাবি এবং মেয়েদের থ্রি-পিসের ক্ষেত্রে বড় ব্র্যান্ডের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ দেখা যাচ্ছে।

উচ্চবিত্ত ক্রেতারা কেনাকাটার ক্ষেত্রে দামের চেয়ে মান এবং এক্সক্লুসিভ ডিজাইনের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। একজন ক্রেতা জানান, ভিড়ের মধ্যে গাদাগাদি করে কেনাকাটা করার চেয়ে শোরুমের এসি পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্যে নিজের পছন্দমতো পোশাক কেনা অনেক আরামদায়ক। এছাড়া ব্র্যান্ডের পোশাকের স্থায়িত্ব ও ফিনিশিং সব সময়ই আলাদা আভিজাত্য বহন করে।

ঈদের পোশাকে বরাবরের মতোই ছেলেদের প্রথম পছন্দ পাঞ্জাবি। ব্র্যান্ডের শোরুমগুলোতে সিল্ক, তসর এবং সুতির ওপর এমব্রয়ডারি করা পাঞ্জাবি ৫ হাজার থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। 

অন্যদিকে, নারীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে জামদানি, কাতান এবং ইন্ডিয়ান ডিজাইনার থ্রি-পিস। রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সিল্কের শোরুমগুলোতেও সচ্ছল পরিবারের নারীরা ভিড় করছেন ঈদের বিশেষ সিল্কের শাড়ি ও ড্রেস সংগ্রহের জন্য।

পাঞ্জাবি ও শাড়ি কিনতে আসা এক ক্রেতা নাসরিন নাহার বলেন, সাধারণ পোশাকের চাইতে ব্র্যান্ডেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। দাম যাই হোক এটিতে স্বস্তি পাই। এজন্যই কিনতে আসা।

রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) ঈদের কেনাকাটা নির্বিঘ্ন করতে শহরজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গুরুত্বপূর্ণ শোরুমগুলোর সামনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে যাতে ক্রেতারা গাড়ি নিয়ে সহজে যাতায়াত করতে পারেন। 

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকায় এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ায় এবারের ঈদে বিক্রি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তারা আশা করছেন।