শিরোনাম

মোহাম্মদ নুর উদ্দিন
হবিগঞ্জ, ১৫ মার্চ ২০২৬ (বাসস): পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে হবিগঞ্জ শহরে জমে উঠেছে বেচা-কেনা। বিপণিবিতানগুলোতে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সের ক্রেতা। পাশাপাশি জুতা ও কসমেটিকসের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন তরুণ-তরুণীরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
এ বছর অর্গানজা ও পুষ্পা ড্রেস তরুণীদের দখলে। আর নারীদের পছন্দ রাজশাহী সিল্ক, সুতি এবং তরুণদের আড়ং ও কটন পাঞ্জাবি। এবার বাজারে বাহারি ডিজাইনের পোশাকের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও সাধারণ ক্রেতারা কাপড়ের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে কিছুটা অসন্তুষ্ট। তবে গত বছরের চেয়ে এবারের ঈদে ক্রেতাদের উপস্থিতি যেমন বাড়ছে, বেচাকেনাও ভাল।
সরেজমিনে শহরের ঘাটিয়া বাজারের এসডি স্টোর, শংকর বস্ত্রালয়, এসডি প্লাজা, মনিহারী বস্ত্রালয়, আল নুর ক্লথ স্টোর ও মধুমিতাসহ কয়েকটি অত্যাধুনিক কাপড়ের দোকান ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। বাহারি ডিজাইনের পোশাকের পসরা সাজিয়ে দোকানিরা ক্রেতাদের আকর্ষণ করছেন। আর ক্রেতারা পছন্দের পোশাকটি ক্রয় করতে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ছুটছেন।
বিপণিবিতানের পরিচালকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, নারী ও শিশুদের পোশাকে বৈচিত্র্য এসেছে, সাথে অর্গানজা এবং পুষ্পা থ্রি-পিস ও আফগান ড্রেস, লং থ্রি পিস, কাতান, ভারতীয় ড্রেস ডালিয়া ও পার্টি ড্রেসের চাহিদা বেশি। তরুণরা রাজশাহী সিল্ক, এন্ডি সিল্ক ও গরমের জন্য সুতি আড়ং ও কটন পাঞ্জাবি ক্রয় করছেন বেশি।
গতবারের চেয়ে এবার ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি। ১৫ রমজান থেকে বেচা-কেনা শুরু হয়। আগামী কয়েকদিনে বেচা-কেনা আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
ব্যবসায়ীরা জানান, মার্কেটে নিম্ন আয়ের লোকজনের সংখ্যা কম। তারা ঈদের ৩/৪ দিন পূর্বে ঈদের কেনাকাটা করে থাকেন। বর্তমানে প্রবাসীর স্ত্রী-সন্তান, ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য পেশার লোকজনই কেনাকাটা করছেন। চাকুরিজীবীরা বেতন ও ঈদ বোনাসের টাকা পাওয়ার পর কেনাকাটা করবেন। ২০ রমজান থেকে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে।
আগামী দিনগুলোতে গভীর রাত পর্যন্ত বেচা-কেনা চলবে। সর্বনিম্ন সাড়ে ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা দামে তরুণীদের ড্রেস বিক্রি হচ্ছে।
তারা আরো জানান, শাড়ির মধ্যে মুসলিম কাতান ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার, কামিজ বরণ ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার, মেঘদূত ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার, বেঙ্গালো পিওর শাড়ি ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে মেয়েদের ডালিয়া প্রতি পিস ড্রেস ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার, কাতানের মধ্যে থ্রি পিস রাউন ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা, সিল্ক ২ হাজার থেকে ৫ হাজার, কামিজ ফোর পিস ১৬শ থেকে ৩ হাজার, রাখী থ্রি পিস ২ হাজার থেকে ৯ হাজার, গর্জিয়াস পার্টি ৪/৫ হাজার, রাউন্ড টুপিস সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাহুবলী-২ ৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য পোষাকও দুই হাজার থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে ছোটদের পোশাকেও রয়েছে ভিন্নতা। মেয়ে শিশুদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে লং ফ্রক ও পার্টি ফ্রক। এবার মার্কেটগুলোতে উঠেছে লেহেঙ্গা ও লং কামিজ। গরমকে সামনে রেখে ছেলে শিশুদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে সুতি টি-শার্ট ও বাবা স্যুট। এছাড়া আছে বিভিন্ন ডিজাইনের প্যান্ট।
মার্কেটগুলোতে এখন ক্রেতাদের বেশির ভাগই মহিলা ও তরুণ-তরুণী। আবার অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানদের পছন্দের জামা কাপড় ক্রয় করতে বাজারে এসেছেন। তবে কাপড়ের দাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা অন্যান্য বছরের চেয়ে কাপড়ের দাম কিছুটা কম বললেও ক্রেতারা বলছেন, এ বছর কাপড়ের দাম আকাশচুম্বী।
ক্রেতা আরিফুল বলেন- গত বছরের ছেয়ে এবার কাপড়ের দাম সামান্য বেশি মনে হচ্ছে। তবে বাজারে সুন্দর সুন্দর ডিজাইনের জামা কাপড় এসেছে। আমরা পরিবারের সকল সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করছি।
ক্রেতা মেরিন আক্তার বলেন- ছেলেদের ছেয়ে নারীদের কাপড়ের দাম সবসময়ই বেশি, এবারও তার ব্যতিক্রম নয়, কেনাকাটা করছি। পছন্দ মতো হলে সবার জন্য দুই একদিনের মধ্যে সেরে নিব।
ব্যবসায়ী জাকারিয়া বলেন- মূলত রমজানের শেষের চার পাঁচ দিন কেনাকাটা বেশি হয়। তবে গতবারের চেয়ে এবার ভাল কেনা-বেচা হচ্ছে। ব্যবসায়ী আরিফ মিয়া বলেন- এবার ছেলেদের জন্য নতুন নতুন ডিজাইনের প্যান্ট, টিশার্টসহ নানান কাপড় এসেছে। ক্রেতারা পছন্দ অনুযায়ী কিনে নিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াছমিন আক্তার বাসসকে বলেন- ঈদ মার্কেট যাতে করে ক্রেতারা নির্বিঘ্নে করতে পারেন সে জন্য আইনশৃঙ্খা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মার্কেটগুলোতে মোতায়েন ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যে কোন ধরণের অপতৎপরতারোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাদ দৃষ্টি রাখছে।