বাসস
  ১৫ মার্চ ২০২৬, ১৪:৪২

ঈদ উপলক্ষে ব্যস্ততা বেড়েছে লালমনিরহাটের দর্জিদের

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে লালমনিরহাটে দর্জিদের কর্মব্যস্ততা বেড়েছে । ছবি : বাসস

।। বিপুল ইসলাম।।

লালমনিরহাট, ১৫ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে লালমনিরহাটে দর্জিপাড়ায় বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। বাড়তি অর্ডারের চাপে দর্জিরা দিন-রাত সেলাই ও কাপড় কাটার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। চাঁদরাতের আগেই ক্রেতাদের হাতে পোশাক পৌঁছে দিতে অনেক দর্জি গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা সদরের বিভিন্ন টেইলার্সে ফ্যাশন সচেতন নারী-পুরুষের ভিড় বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে আধুনিক ও নতুন ডিজাইনের পোশাক তৈরিতে আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। 

দর্জিরা জানান, অর্ডারের চাপ বাড়ায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেলাই মেশিন চলছে। থেমে থাকার ফুরসত নেই।

দর্জিরা বলেন, ঈদের সময় ছেলেদের পাঞ্জাবি এবং মেয়েদের নিত্যনতুন ডিজাইনের পোশাকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। জেলা শহরের রেক্স টেইলার্স এবং বড়বাড়ী এলাকার সুশ্রী টেইলার্সের মালিকরা জানান, ঈদের মৌসুমে কাজের চাপ সারা বছরের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। এতে কিছুটা বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।

সুশ্রী টেইলার্সের পরিচালক সুমন্ত কুমার সেন জানান, তার প্রতিষ্ঠানে কাস্টমারের কাছ থেকে একটি শার্ট তৈরির জন্য ৩০০ থেকে ৩৭০ টাকা নেওয়া হয়। ফুলপ্যান্ট ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, থ্রি-পিস ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা, পাঞ্জাবি ৩৫০ থেকে ৫২০ টাকা, মেয়েদের বোরকা ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ব্লাউজ-পেটিকোটের জন্য ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। তবে স্থানভেদে এই মজুরি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

কারিগরদের মজুরি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতি পোশাক তৈরির জন্য কারিগরদের নির্ধারিত হারে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। প্রতি পিস শার্টের জন্য ১১০ থেকে ১৩০ টাকা, প্যান্টের জন্য ১৩৫ থেকে ১৮৫ টাকা, থ্রি-পিসের জন্য ১১০ থেকে ১৮৫ টাকা, পাঞ্জাবির জন্য ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, ব্লাউজ-পেটিকোটের জন্য ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা এবং মেয়েদের বোরকার জন্য ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়। তবে স্থানভেদে এই মজুরি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

দর্জির কাছে পোশাক বানাতে আসা রিধিকা ইয়াসমিন ও পিয়াংকা আক্তার বলেন, প্রতি ঈদেই তারা নিজের পছন্দের কাপড় বেছে দর্জির কাছে পোশাক তৈরি করান। এবারও তারা কয়েক সেট পোশাক বানিয়েছেন। তবে আগের তুলনায় দর্জির মজুরি কিছুটা বেড়েছে বলে জানান তারা।

সুশ্রী টেইলার্সে পাঞ্জাবি তৈরি করতে এসে তরুণ লিংকন ইসলাম বলেন, দর্জির কাছে নিজের পছন্দমতো ডিজাইনে পোশাক তৈরি করা যায়। দর্জির তৈরি পোশাক শরীরের সঙ্গে মানানসই ও দেখতে সুন্দর হয়। তাই তিনি সাধারণত টেইলার্স থেকেই পোশাক বানান। ঈদের সময় কিছুটা বেশি খরচ হলেও এতে আরামদায়ক ও রুচিশীল পোশাক পাওয়া যায় বলে তিনি জানান।

স্থানীয় দর্জিরা জানান, চলতি মৌসুমে জর্জেট, কাতান, সিল্ক, ভেলভেট, নেট, তসর ও টিস্যু কাপড়ের পোশাকের চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে জরি, চুমকি ও কুন্দনের কাজ করা পোশাকের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। পাশাপাশি আরামদায়ক হওয়ায় সূতি কাপড়ের পোশাকের বাজারও বেশ ভালো রয়েছে।