বাসস
  ১৪ মার্চ ২০২৬, ২২:১১

ঈদ কেনাকাটায় জমজমাট খুলনার বাজার

ছবি : বাসস

খুলনা, ১৪ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে আসায় খুলনার বাজার ও শপিং সেন্টারগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। নতুন পোশাকের খোঁজে মানুষ ছুটছেন বিপণিবিতানগুলোতে। বিশেষ করে নারীদের থ্রি-পিস, গাউন ও লেহেঙ্গার দোকানগুলোতে ভিড় চোখে পড়ার মতো। 

সরকারি কর্মচারীরা বেতন ও বোনাস পাওয়ার পর ১৬ রমজান থেকে ফুটপাতের দোকান থেকে শুরু করে অভিজাত শপিং সেন্টারগুলোতে বিক্রি বেড়েছে। 

আজ শনিবার সরেজমিনে দেখা ঘুরে দেখা গেছে, নিক্সন মার্কেট থেকে শুরু করে বিলাসবহুল শপিং সেন্টার পর্যন্ত শহরের রাস্তাগুলোতে ছিল ক্রেতাদের ভিড়। তবে পুরুষদের তুলনায় নারীদের পোশাকের দোকানে ভিড় বেশি দেখা গেছে।

আখতার চেম্বার, হাজি মালেক চেম্বার, ঈশা চেম্বার, পিকচার প্যালেস, খুলনা শপিং কমপ্লেক্স, রব সুপারমার্কেট, শহীদ সোহরাওয়ার্দী বিপণি বিতান, রেলওয়ে বিপণি বিতান, জব্বার মার্কেট, খানজাহান আলী হকার্স মার্কেট এবং নিউ মার্কেটে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। 

দোকানিরা জানান, তুলনামূলক কম দামের কারণে মাঝারি মানের বাজার ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে বিক্রি বেশি হচ্ছে।

নিক্সন মার্কেটের কাছে ফুটপাতের বিক্রেতা সরোয়ার বলেন, রমজানের ১২ তারিখ পর্যন্ত বিক্রি কম ছিল। তবে ঈদ বোনাস দেওয়ার পর থেকে বিক্রি বেড়েছে। তিনি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে পুরুষদের টি-শার্ট ও শার্ট বিক্রি করেন।

শিশুদের পোশাক বিক্রেতা মামুনও জানান, ১৫ রমজানের পর থেকে বিক্রি বেড়েছে।

রেলওয়ে বিপণি বিতানে পুরুষদের পোশাক বিক্রেতা হাসান বলেন, তার দোকানে ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে প্যান্ট পাওয়া যায় এবং গত সপ্তাহ থেকে বিক্রি বেড়েছে।

অভিজাত খুলনা শপিং সেন্টারের ‘ঐশিকা ফ্যাশন’-এর মালিক উৎপল দত্ত বলেন, তরুণীরা কটন থ্রি-পিস, জর্জেট, অর্গাঞ্জা, জিমুচ্চি ও পার্সিয়ান গাউন বেশি কিনছেন।

তার দোকানে কটন থ্রি-পিসের মূল্য ২ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা। জর্জেট পাকিস্তানি পার্সিয়ান গাউনের মূল্য ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। অর্গাঞ্জার মূল্য ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৭ হাজার টাকা। জিমুচ্চি থ্রি-পিস ২ হাজর ৫০০ থেকে ৩ হাজর ৫০০ টাকা। ভারতীয় পার্সিয়ান গাউনের দাম ৩ হাজর থেকে ৭ হাজার টাকা।

মরিয়ম এন্টারপ্রাইজের আবুল হোসেন বলেন, এ বছরের সংগ্রহে পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশের পার্সিয়ান গাউন রয়েছে। এগুলোর দাম ৩ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে। তিনি আরও জানান, সাধারণত ৭-১৪ রমজানের মধ্যে ঈদের কেনাকাটা বেশি হয়, তবে এ বছর ভিড় শুরু হয়েছে ১৫ রমজানের পর। 

কিছু ক্রেতা পোশাকের উচ্চমূল্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা শাহাদাত জানান, তিনি দুপুর থেকে বাজার ঘুরছেন কিন্তু দাম বেশি মনে হওয়ায় আরও পরে শিশুদের পোশাক কিনবেন বলে ঠিক করেছেন। 

পিকচার প্যালেস সুপারমার্কেটে ইসলামপুর ও ঢাকা থেকে আনা কিছু ওয়ান-পিস, টু-পিস ও থ্রি-পিসে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

নারীদের শাড়ির দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের ভিড় রয়েছে। বি-প্লাস প্রিন্টেড শাড়ি ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং টাঙ্গাইল শাড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নিউ মার্কেটে ‘ক্যাটস আই’-এর মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ব্যাংক ঋণ নিয়ে তিনি কয়েক লাখ টাকার পোশাক এনেছেন। তার দোকানে শিশু, নারী ও পুরুষদের নানা ধরনের পোশাক থাকলেও এ বছর বিক্রি কিছুটা ধীরগতির।

ঈদ কেনাকাটার এই ভিড় প্রমাণ করছে, ক্রেতারা দাম নিয়ে সচেতন হলেও ফ্যাশনেবল নারীদের পোশাকের চাহিদাই খুলনার বাজারগুলোকে সরগরম করে রেখেছে।