বাসস
  ০৫ মার্চ ২০২৬, ১৬:১৫

নড়াইলের জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সূর্যমুখী ফুলের চাষ

ছবি : বাসস

সুলতান মাহমুদ

নড়াইল, ৫ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : জেলার ৩ উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সূর্যমুখী ফুলের চাষ। কম খরচে অধিক ফলন ও লাভবান হওয়ায় সূর্যমুখী ফুলের চাষে ঝুঁকছে এ জেলার কৃষকেরা।

ভোজ্যতেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিকল্প পদ্ধতি ও অধিক লাভের আশায় দিন দিন সূর্যমূখীর চাষ বাড়ছে বলে জানান, কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

জেলার সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের চাঁচড়া গ্রামের মাঠে হলুদ সূর্যমুখী ফুলের সৌন্দর্য চোখ জুড়িয়ে যায়। এ যেন চারিদিক হলুদের সমারোহ। ক্ষেতজুড়ে সূর্যমুখী বাগানের হলুদ সবুজের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ভীড় করছে শত শত সৌন্দর্য পিপাসু দর্শনার্থী। দু-চোখ জুড়ানো মাঠে প্রতিদিন বিকেলে ঘুরতে ভিড় করছেন তরুণ-তরুণীরা। কোথাও কোথাও সূর্যমুখী বাগানকে ঘিরে গড়ে উঠেছে ছোটখাটো বিনোদন কেন্দ্র।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা নিপু মজুমদার জানান, জেলার ৩ উপজেলায় ১৯১ হেক্টর জমিতে সূর্যমূখীর চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৭৮ হেক্টর জমিতে, লোহাগড়া উপজেলায় ৫৮ হেক্টর জমিতে এবং কালিয়া উপজেলায় ৫৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। জেলায় মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৪৩ মেট্রিক টন। গত বছরের তুলনায় এবার এ তিন উপজেলায় ৮১ হেক্টর বেশি জমিতে সূর্যমূখীর চাষ হয়েছে।  সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন,আগামী বছর আরও বেশি জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হবে।

চাঁচড়া গাবতলা গ্রামের কৃষক আব্দুল্লাহ মোল্যা বলেন, ‘ আমি ৩০ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। গাছে ফুলের অবস্থা দেখে ভালো ফলনের আশা করছেন। সূর্যমুখীর তেল খেতে খুবই সুস্বাদু। কৃষক ভাইদের বলবো, বীজ লাগানোর সময় দড়ি দিয়ে সারি করে লাগালে ফলন ভালো হয়।’

চাঁচড়া গ্রামের কৃষক শহীদুল্লাহ বলেন,‘ প্রথম বারের মত আমি ১২ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। কৃষি অফিস থেকে সূর্যমুখীর বীজ ও সার প্রণোদনা হিসেবে দেয়া হয়েছে। ফলন খুব ভালো হয়েছে। সূর্যমূখীর তেল দিয়ে স্থানীয়ভাবে নিজেদের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণ করে বাড়তি তেল বাজারে বিক্রি করতে পারছি।’

তুলারমপুর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজীব বিশ্বাস বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর তুলারামপুর ইউনিয়নে সূর্যমুখীর আবাদ দ্বিগুণ হয়েছে। সূর্যমুখী তেলের উচ্চ মূল্য থাকার কারণে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে। প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। এ বছর উচ্চ ফলনশীল জাত বারি সূর্যমুখী-৩ এবং হাইব্রিড ‘হাইসান-৩৬’ জাত বেশি চাষ হয়েছে। তিনি আরও জানান, সূর্যমুখী তেল হৃদরোগের ঝুঁকি ও কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক এবং রান্নার স্বাদ বাড়ায়। ফলে সূর্যমুখী চাষে মানুষের আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘ সূর্যমুখী একটি তেলজাতীয় ফসল। নড়াইল সদরসহ ৩উপজেলায় সূর্যমুখীর চাষাবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষকদের বিনামূল্যে সূর্যমুখীর বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। মাঠের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এ বছর বাম্পার ফলন হবে। আশা করছি কৃষকরা সামনের দিন গুলোতে সূর্যমুখী চাষে আরও আগ্রহী হবেন।