শিরোনাম

বিপুল আশরাফ
চুয়াডাঙ্গা, ৪ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : জেলার সব ধরনের সবজির দাম কমেছে । এতে স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মাঝে। রমজান মাস শুরু হওয়ার পূর্বে সবজির দাম বেড়ে ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যায়। আবার রমজান মাস শুরুর কয়েকদিনের মধ্যে কমতে থাকে সবজিসহ মসলার দাম।
রমজানের শুরুর দিকেও যেসব সবজির দাম ছিল আকাশছোঁয়া তা এখন ক্রেতা সাধারণের নাগালের মধ্যে। তবে দেশি ও বিদেশী ফলের দাম বেড়েই চলেছে। প্রকার ভেদে বিভিন্ন ফলের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন রমজান উপলক্ষে ফলের চাহিদা বেশি হওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে।
আজ বুধবার চুয়াডাঙ্গা শহরের বড়বাজার, নিচের বাজার ও রেলবাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের শীতকালীন ও বারোমাসি সবজির দাম কমেছে। রমজানের শুরুতে যেখানে কাগুজে লেবু বিক্রি হচ্ছিল ৬০ টাকা হালি এবং শসা ছিল ১২০ টাকা কেজি। সেখানে বর্তমানে লেবু ৪০ টাকা হালি এবং শসা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারী বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁয়াজ ৩০/৩৫ টাকা, রসুন ৫০/৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ৭০/৭৫ টাকা, আদা ১৩০/১৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০/৪৫ টাকা, সজনে ডাটা (চিকন) ৩৫০/৪০০ টাকা, বেগুন ৩০/৪০ টাকা, শিম ২০ টাকা, লাল শাক ১০ টাকা আটি, কাঁচাকলা ২০ টাকা, টমেটো ১০/২০ টাকা, ফুলকপি ২০ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, মূলা ৩০ টাকা, লাল গোল আলু ২৫ টাকা, পালং শাক ৫ টাকা, করলা ১০০ টাকা ও আলু ১২/১৩ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু সবজির দাম রমজানের শুরুতে দ্বিগুনের বেশি ছিলো।
অন্যদিকে শহরের বড়বাজার ও রেলবাজার ফলের দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, আপেল ৩৫০ টাকা, আঙ্গুর ৪০০ টাকা, কমলা চাইনা ৩৩০ টাকা, আনারস প্রতি পিস ৫০/৬০ টাকা, ৫/৬ কেজি ওজনের একটি তরমুজ ৪০০/৪৫০ টাকা, কুল ৫০/৬০, পাকা কলা প্রতি হালি ২০/৩০ টাকা ও পেয়ারা ৯০/১০০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। এসব ফলের দাম রমজানের শুরুতে কিছুটা কমে পাওয়া যেত।
এ বিষয়ে কাঁচামাল আড়ৎদার ডিউক বলেন, রমজান মাসের শুরুর দিকে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা চড়া ছিল। কিন্তু এখন বাজারে প্রচুর সবজি আসছে, ফলে দাম আগের চেয়ে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ক্রেতারা এখন পছন্দমতো কেনাকাটা করতে পারছেন। আমরাও স্বাচ্ছন্দের সাথে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সবজি বিক্রি করতে পারছি।
সবজি ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই আছে। সামনের দিনে সবজির দাম আরও কমতে পারে। বর্তমানে কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা কম। রমজানের শুরুর দিকে অনেকে একবারেই এক মাসের বাজার করায় সবজির চাহিদা বেড়ে গিয়েছিল যার কারণে দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল।
সবজি বাজার করতে আসা শিপন বলেন, রমজান মাসের শুরুর দিকে বাজার করেছিলাম তখন প্রতিটা সবজির দাম ছিল বেশি। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম কমেছে অর্ধেকেরও বেশি। তবে লেবুর দামটা বরাবরই বেশি।
সবজির বাজারে স্বস্তি থাকলেও রোজাদাররা ফল কিনতে গিয়ে বেকায়দায় পড়ছে। আপেল, আঙুর, কমলা ও মাল্টার দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফল বিক্রেতা রিয়াজ জানান, দেশি ফলের পাশাপাশি আমদানিকৃত কমলা, আঙুর ও আপেলের দাম প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।