বাসস
  ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৭:২২

নগরবাসীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা প্রথম অগ্রাধিকার :কেসিসি প্রশাসক 

ছবি : বাসস

খুলনা, ৩ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)-এর প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্যই এই ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দরকার। তাই নগরবাসীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আমার প্রথম অগ্রাধিকার। 

তিনি বলেন, কেসিসির আওতাধীন সব স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং হাসপাতালগুলোকে নতুনভাবে সাজানো হবে। যাতে হাসপাতালগুলো জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে নগরীর খালিশপুর ‘লাল হাসপাতাল’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এসময় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব আরিফুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খানসহ কেসিসির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কেসিসি প্রশাসক মঞ্জু বলেন, খালিশপুর শিল্পাঞ্চলের অন্যতম স্বাস্থ্যকেন্দ্র ‘লাল হাসপাতাল’। এটি ঐতিহ্যবাহী এবং অনেক পুরাতন। শিল্পাঞ্চলের মানুষের জন্য এটি অনন্য প্রতিষ্ঠান। সীমিত সম্পদ ও লোকবলের মাধ্যমে তারা প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ জন মানুষের সেবা দিয়ে থাকে। রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছ থেকে জানার চেষ্টা করেছি শিল্পাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য এবং নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য আরও কি কি সাপোর্ট দরকার। 

তিনি বলেন, তাদের চাহিদাপত্র অনুযায়ী আমরা তাদের সাপোর্ট দেব। এটি আরও সম্প্রসারণ করার ইচ্ছা আমাদের আছে। প্রতি নিয়নিয়তই মানুষ বাড়ছে এবং এটি শিল্প শ্রমিক অঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। বিনা পয়সায় মানুষের চিকিৎসা এবং বিনা পয়সায় ওষুধ দেওয়া, এটি একটি ভিন্নধর্মী প্রতিষ্ঠান। নগরীর বেশিসংখ্যক মানুষ যেন এই সেবা পায় আমরা সেই চেষ্টা করব।

হাসপাতালের সেবা নিশ্চিত করার জন্য কেসিসি প্রশাসক পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের জন্য সিভিল সার্জনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অনুরোধ করবেন বলে জানান। 

তিনি নগরীর মশক নিধনের ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিষয়টি খতিয়ে দেখার অঙ্গীকার করে বলেন,  ‘মশক নিধনের ওষুধ যাতে কার্যকর হয়, তা পরীক্ষা করেই নিতে হবে। এ খাতে দুর্নীতি প্রতিরোধে আমরা কাজ শুরু করেছি। 

কেসিসির প্রশাসক হিসেবে নিজের মূল লক্ষ্য সম্পর্কে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই আমার প্রধান উদ্দেশ্য। 

তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন একটি সবুজ নগরী গড়ে তোলা। যেটা প্রধানমন্ত্রী চান। এই শহরের মানুষের কাছে তিনটি জিনিস সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা-ঘাট পরিষ্কার ও ধুলামুক্ত শহর, গ্রিন সিটি এবং মশামুক্ত জীবন। আমরা ইতোমধ্যে সেই প্রোগ্রামে হাত দিতে পেরেছি। আমরা খুব তাড়াতাড়ি ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে উন্নত এবং মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করব।

মঞ্জু বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে ৬ জন প্রশাসক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। তিনি যে কয়টি গুরুত্বপূর্ণ কাজের কথা বলেছেন তার মধ্যে একটি মশক নিধন। সামনে ডেঙ্গু ও চিকন গুনিয়ার সিজন আসছে। তার আগেই আমাদের সব ড্রেন পরিষ্কার করতে হবে। জলাবদ্ধ যে-সব জায়গায় এডিস মশা ডিম পাড়ে সেসব জায়গাগুলো খুঁজে বের করে আমরা পরিষ্কার করব। 

তিনি বলেন, আমরা এমন একটি কাজ করতে চাই যাতে মশকটা উৎপাদনের জায়গা থেকেই নির্মূল করা যায়। আমরা সেই প্রোগ্রামটা হাতে নিয়েছি। কয়েকদিনের মধ্যেই আমরা সেই প্রোগ্রামে নামবো। প্রতিটা ড্রেনকে আমরা পরিষ্কার করবো। একইসঙ্গে ডোবা, নালা, ঝোপঝাড় শুধু পরিস্কারই করবো না আমরা জনগণের সাপোর্ট চাই। জনগণকে বলবো আমাদের সাথে কাজ করার জন্য। প্রত্যেকটা মানুষের বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার করতে হবে। সিটি কর্পোরেশন সব জায়গায় পৌঁছাতে পারবে না। ১০ লাখ মানুষের বসতি এই শহরে। সেই শহরে নিম্ন আয়ের মানুষ আছে, নিম্নাঞ্চল আছে। বস্তি আছে। সেসব জায়গায় আমাদের কাজ করতে হবে। 

জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তিনি নগরবাসীকে নিজ নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে এসে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সবাই মিলে কাজ করলেই আমরা মশক নিধন করতে পারবো।