শিরোনাম

ঢাকা, ১ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): অমর একুশে বইমেলার ৪র্থ দিনে আজ রোববার নতুন বই এসেছে ৪২টি।
দুপুর ২টায় শুরু হয়ে মেলা চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৩টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ : হামিদুজ্জামান খান শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।
লালারুখ সেলিমের সভাপতিত্বে এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নাসিমুল খবির। আলোচনায় অংশ নেন আইভি জামান।
নাসিমুল খবির বলেন, হামিদুজ্জামান খান ভাস্কর্য নির্মাণে পরিণত পর্বে ধাতব উপকরণের বাইরেও নানা উপকরণ ব্যবহার করে ভাস্কর্য নির্মাণ করেছেন। বিন্যাসের প্রয়োজনে কখনো কখনো কাঠ, পাথর, প্লাস্টিক, কঁাঁচ, কংক্রিট- ইত্যাদি নানাবিধ উপকরণ ব্যবহার করেছেন। নির্মাণ সংখ্যা, উপকরণ ও গড়নের বৈচিত্র্য এবং উপস্থাপনায় অভিনবত্বে তার নির্মাণ সমসাময়িক ও ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের আধুনিক ধারার ভাস্কর্য চর্চার পথিকৃৎ নভেরা আহমেদ এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভাস্কর্য চর্চার সূচনাকারী অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের উত্তরসূরি হিসেবে অধ্যাপক হামিদুজ্জামান খান অর্ধশত বছর জুড়ে যে বিস্তৃত শিল্পসম্ভার রচনা করেছেন তা অসামান্য। জীবনাবসানের পূর্ব পর্যন্ত তিনি ছিলেন কর্মমুখর। একইসঙ্গে ভাস্কর্যে শিক্ষক হিসেবেও ছিলেন অত্যন্ত যত্নশীল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য বিভাগসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগসমূহের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী তার সংস্পর্শে এসেছেন। আমরা আশা করতেই পারি, তার উত্তরসাধকদের কর্মতৎপরতার মধ্য দিয়ে তিনি হাজির থাকবেন প্রাজ্ঞ পূর্ব সাধক হিসেবে।
আইভি জামান বলেন, শিল্পী হামিদুজ্জামান খান তার কর্মমুখর জীবনে সৃষ্টিশীলতার মাঝেই সবসময় ডুবে থাকতেন। জীবনাবসানের পূর্ব পর্যন্ত শিল্পসাধনায় নিমগ্ন ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে তার সৃষ্টিশীলতার স্মারক তিনি রেখে গেছেন। সেসব সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়েই তিনি সাধারণ মানুষের মনে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকবেন।
লালারুখ সেলিম বলেন, আমাদের দেশে ভাস্কর্য শিল্পকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য শিল্পী হামিদুজ্জামান খানের প্রয়াস ছিল লক্ষণীয়। তিনি যেমন মূর্ত ভাস্কর্য নির্মাণ করেছেন, তেমনি বিমূর্ত শিল্প নিয়েও কাজ করেছেন। তার কাজের পরিধি ছিল অত্যন্ত ব্যাপক।
লেখক বলছি- অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন এবিএম সোহেল রশিদ। বিকেল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কবি ইউসুফ রেজা।
আবৃত্তি করেন, ফারহানা পারভীন তৃণা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আজগর আলীম, আবু বকর সিদ্দিক, নারায়ণ চন্দ্র শীল এবং সামীমা সুলতানা।
আগামীকাল ২ মার্চ সোমবার মেলা শুরু হবে দুপুর ২টায় এবং চলবে হবে রাত ৯টা পর্যন্ত।
বইমেলার মূল মঞ্চে বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে সার্ধশত জন্মবর্ষ : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন হামীম কামরুল হক।
আলোচনায় অংশ নেবেন পারভেজ হোসেন। সভাপতিত্ব করবেন সফিকুন্নবী সামাদী। বিকেল ৪টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।