শিরোনাম

কুমিল্লা, ১ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের শহর কুমিল্লা নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। এ শহরকে রক্ষা ও পুনর্গঠনে প্রয়োজন সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ।
সিটি কর্পোরেশন, সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে যানজট নিরসন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন রোধ সম্ভব বলে তিনি মত দেন।
আজ রোববার কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মনিরুল হক চৌধুরী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি জনগণের কাছে উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছেন। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভাঙাচোরা রাস্তাঘাটের চিত্র দেখেছেন। তাই উন্নয়ন ছাড়া বিকল্প নেই। এখন কাজের মাধ্যমেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চান তিনি। এজন্য তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সিটি কর্পোরেশনের সীমানা বৃদ্ধির প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ঈদের পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। সীমানা বৃদ্ধি বাস্তবায়িত হলে ওয়ার্ড পুনর্গঠন, সদর ও সদর দক্ষিণ উপজেলার পুনর্বিন্যাসের কাজ একই কমিশনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ময়নামতি, মোকাম ও ভারেল্লা ইউনিয়ন আগে কোতোয়ালীর অংশ ছিল। ভবিষ্যতে এগুলো নিয়ে আলাদা উপজেলা গঠন অথবা আদর্শ সদরের সঙ্গে একীভূত করার প্রস্তাব রয়েছে।
কুমিল্লাকে বাঁচাতে ওয়াসা গঠন জরুরি বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েও ওয়াসা গঠন করতে হবে। এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনকে দ্রুত অফিসিয়াল প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানান।
পদুয়ার বাজার হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের শহরে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, একটি চলাচলের রাস্তা ডিভাইডার দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার নজির বিরল। ইউলুপ স্থাপন করে নিচের ব্যারিকেড খুলে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
গোমতী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করে এমপি বলেন, এক ইঞ্চি মাটিও কেউ কাটতে পারবে না।
জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চাঁনপুর ও বিসিক এলাকার জলাবদ্ধতা মানবসৃষ্ট। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে এবং তারা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। কুমিল্লার পানি ডাকাতিয়া হয়ে মেঘনা নদী পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশের প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সমীক্ষা চলছে। দক্ষিণ কুমিল্লা-উত্তর নোয়াখালী সেচ প্রকল্প পুনরায় চালু করা গেলে জলাবদ্ধতা অনেকাংশেই কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শহরের চাপ কমাতে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস শহরের বাইরে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, মেডিকেল কলেজের ক্যাম্পাস গোমতীর উত্তরে স্থানান্তরের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সংশ্লিষ্ট টিম শিগগিরই পরিদর্শনে আসবে এবং কাজ শুরু হবে।
এর আগে তিনি আদর্শ সদর উপজেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শাহ আলম, জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ, আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাশিয়াত আক্তার, কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিরুজ্জামান আমিরসহ সিটি কর্পোরেশন ও উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা।