শিরোনাম

মজিবুর রহমান
শরীয়তপুর, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : দশ রোজা শেষ হয়েছে। আর কুড়ি দিন পরেই ঈদ। ঈদ উপলক্ষে ইতোমধ্যেই জমে উঠেছে ঈদের বাজার। জামা-জুতাসহ শহরের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও ক্রেতাদের ভিড়।
প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা শরীয়তপুর। জেলার বিপুলসংখ্যক লোক ইউরোপ, আমেরিকাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, জাপান, কোরিয়া এবং মালয়েশিয়া প্রবাসী। কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন জেলার প্রধান আয়ের উৎস হলেও, বৈদেশিক কর্মসংস্থানই দিন দিন অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস হয়ে উঠছে। সেই সুবাদে ঢাকার হলেও, এ জেলার লোকজন পালা পার্শ্ববর্তী, রোজা, পূজা, ঈদে উৎসবে মেতে ওঠেন। সেই সাথে কেনাকাটার ধুম পড়ে যায়। ঈদ সামনে রেখে জমে ওঠে বাজার। ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় জেলার অভিজাত বিপণিবিতানের পাশাপাশি ও ফুটপাতের দোকানগুলোও মুখরিত হয়ে ওঠে।
এ বছর তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ঈদের আরো বিশ দিন বাকি থাকলেও ইতোমধ্যেই অনেকেই ঈদের কেনাকাটা শেষ করেছেন। আর যারা এখনও করে উঠতে পারেননি, তারা ভিড় করছেন শহরের দোকানগুলোতে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের তৈরি পোশাক, কাপড়, কসমেটিকস, জুতা, স্যান্ডেল ও মশলার দোকানে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশ ভিড়। তবে পণ্যের দাম ও মান নিয়ে ক্রেতাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
কেউ কেউ পণ্যের দাম ও মান জুতসই বলে জানালেও অনেক ক্রেতা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
দোকানিদের মধ্যেও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই বিকিকিনি কম বলে জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
শরীয়তপুর জেলা শহরের পালং উত্তর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী অলক দেবনাথ বাসসের সাথে আলাপকালে বলেন, বেচাকেনা সন্তোষজনক। রোজা যত ফুরিয়ে আসবে ক্রেতাদের ভিড় আরো বাড়বে।
ইতি বস্ত্রালয়ের মালিক চুন্নু ব্যাপারী বলেন, এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি ঈদ বাজার। তবে অচিরেই জমে উঠবে বলে তিনি আশাবাদী।
ক্রেতা সোনিয়া বিলকিস বাসসকে বলেন, ‘আমি নিজের জন্য শাড়ি ও থ্রি পিস, বাড়িওয়ালার জন্য পাঞ্জাবি, ছেলে-মেয়েদের জন্য বিভিন্ন আইটেমের পোশাক কিনেছি আর একটু দেখেশুনে জুতা ও স্যান্ডেল কিনবো।’
অভিজাত বিপণিবিতানগুলোর পাশাপাশি ফুটপাতের দোকানেও বেশ ভিড়। অভিজাত ও ধনাঢ্য ক্রেতারা বিপণিবিতানগুলোতে ভিড় করলেও মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের ভরসা ফুটপাত।
রাস্তার ধারের ফুটপাতগুলোতে হরেক রকম মালামালের পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানিরা। সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।