শিরোনাম

নেত্রকোণা, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, অতীত কাঠামোর চেয়ে বর্তমান সরকার অনেক উন্নত ও জনবান্ধব সেবা প্রদানে বদ্ধপরিকর।
আজ শনিবার নেত্রকোণা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিগত সময়ের সমালোচনা করে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের পর ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে জনগণের কোনো অংশগ্রহণ ছিল না। দীর্ঘ ১৫ বছর দেশে জনগণের সরকার না থাকায় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে জবাবদিহিতার অভাব ছিল এবং প্রশাসনও এক ধরনের স্থবিরতায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল।
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে আপনারা আইন, বিধি ও সংবিধান অনুযায়ী জনগণকে সেবা দিতে বাধ্য। আমরা জনপ্রতিনিধি এবং আপনারা সিভিল সার্ভেন্ট, সবাই যদি একটি টিমওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করি, তবেই জনগণের প্রকৃত সরকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।’
এ সময় অতীত কাঠামোর চেয়ে বর্তমান সরকার অনেক উন্নত ও জনবান্ধব সেবা প্রদানে বদ্ধপরিকর বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কায়সার কামাল বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের শহীদেরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ না করলে আজ আমরা এখানে মুক্ত পরিবেশে বসতে পারতাম না। প্রায় ২ হাজার জুলাই যোদ্ধা বুলেটকে আলিঙ্গন করেছেন এবং হাজার হাজার ছাত্র-জনতা আহত হয়ে এখনো কাতরাচ্ছেন বলেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের ইতিহাসে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান সবচেয়ে বড় ঘটনা। আমাদের সামনে এখন দু’টি রক্তের উদাহরণ আছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধারণ করে এবং জুলাইয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের সম্মিলিতভাবে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নেত্রকোণা-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. আনোয়ারুল হক, নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী এবং নেত্রকোণা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা। অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুখময় সরকার জেলা প্রশাসনের এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) হাফিজুল ইসলাম জেলা পুলিশের কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন।
এছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, এলজিইডি, খাদ্য বিভাগ, সমাজসেবা, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ এবং মৎস্য বিভাগের প্রধানগণ স্লাইড প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে নিজ নিজ দপ্তরের কার্যাবলি, সমস্যা, সমাধান ও সম্ভাব্য করণীয় বিষয়ে প্রধান অতিথিকে অবহিত করেন।