বাসস
  ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৪৭

চাঁদপুরে ইলিশের আড়তগুলো জাটকার দখলে

শুক্রবার চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের বহরিয়া মেঘনা পাড়ের আড়তগুলোতে জাটকা বিক্রিতে সরগরম দেখা গেছে। ছবি: বাসস

চাঁদপুর, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে অভয়াশ্রম এলাকায় মার্চ-এপ্রিল দুই মাস সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। শেষ সময়ে ইলিশের বাজারে চাঁদপুরের উপকূলীয় এলাকার আড়তগুলোতে এখন জাটকায় সয়লাব। বড় ইলিশের আকাল পুরো মৌসুমজুড়ে। মাছ ব্যবসায়ীরা জানালেন জাটকা কেনাবেচা করেই তাদের বর্তমান ব্যবসা টিকে আছে। জাটকা সাইজ ছোট হলেও এতেই ক্রেতারা সন্তুষ্ট।

শুক্রবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সরেজমিন সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের বহরিয়া মেঘনা পাড়ের আড়তগুলোতে পাইকারি ও খুচরা জাটকা বিক্রিতে সরগরম দেখা গেছে।

বহরিয়ার একাধিক আড়তদার জানিয়েছেন, পুরো মৌসুমজুড়ে পদ্মা-মেঘনায় বড় সাইজের ইলিশ খুবই কম ধরা পড়ছে। বেশিরভাগ ছোট সাইজের। এসব জাটকা বিক্রি হয় ২৫০ থেকে ৩শ’ টাকা হালি। আর ৫শ’ থেকে ৬শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয় ১৮শ’ থেকে ২ হাজার টাকা প্রতিকেজি।

ঘাটে জাটকা বিক্রি করতে আসা জেলে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, সকাল ১০টায় নদীতে নেমেছেন। যে কয়টি জাটকা পেয়েছেন বিক্রি করেছেন ৮শ’ টাকা। এরমধ্যে তাদের দুই জেলের হাজিরা ও জ্বালানি খরচ রয়েছে।

পাশের ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের জেলে মোজাম্মেল বলেছেন, তিনিও সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নদীতে নেমে ছোট-বড় যে ইলিশ পেয়েছেন, তা বিক্রি করেছেন ৪হাজার টাকা। নিষেধাজ্ঞার কারণে নৌকা ও জাল ডাঙায় উঠিয়ে রাখবেন।

বহরিয়া মাছঘাটে আসা ক্রেতা ইমরান হোসেন বলেছেন, বড় ইলিশ কেনার সাধ্য নেই। ছোট সাইজের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে এতেও কম কিসের। ইলিশের স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে। ১৫০ থেকে ২শ’ গ্রাম ওজনের এক হালি ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩শ’টাকা।

হরিণা ফেরিঘাটের প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল বাসস’কে বলেছেন, জাটকা ধরা বন্ধ করতে হবে। এটা না হলে বড় ইলিশ পাওয়া যাবে না। এক শ্রেণির জেলে কারেন্টজাল দিয়ে জাটকা ধরে বিক্রি করছে। এ কারণে বাজারে জাটকার উপস্থিতি বেশি।

ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বলেছেন, বাজারে জাটকা বিক্রি হয় এটি ভালো লক্ষণ নয়। তবে জাটকা নদীতে আছে এটি ভালো সংবাদ। আমাদেরকে জাটকা রক্ষার জন্য চেষ্টা করতে হবে। কারণ আজকের জাটকাই আগামী দিনের ইলিশ। এছাড়া এখন ছোট সাইজের ইলিশেও ডিম হচ্ছে। এটি নিয়েও গবেষণা চলছে।